


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগরে ইন্ডোর স্টেডিয়ামের কাজ শুরু করলেও শেষ করেনি বাম সরকার। এবার প্রায় ৩৪ বছর পর স্টেডিয়ামটিকে সম্পূর্ণ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত চন্দননগর পুরসভা।
জানা গিয়েছে, বিবিরহাট চড়কতলায় এই অসম্পূর্ণ স্টেডিয়াম তৈরির জন্য হুগলির তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৭৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন। পাশাপাশি চন্দননগরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং রাজ্যের ক্রীড়াদপ্তর টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দ্রুত ওই স্টেডিয়াম তৈরির কাজ শেষ করতে মাঠে নামছে পুরসভা। আপাতত স্টেডিয়াম চালু করতেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এখন ছাদ তৈরি হবে না। তা পরবর্তী সময় করা হবে।
এ খবরে সাবেক ফরাসি তালুক চন্দননগরে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। খেলাধুলো নিয়ে এখানকার বাসিন্দাদের বিশেষ আগ্রহ। ফলে ৩৪ বছর ধরে অসম্পূর্ণ স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ আলোড়ন ফেলেছে।
পুরসভার মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, ‘১৯৯১ সালে স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরিকাঠামো সম্পূর্ণ করেনি বাম সরকার। পরবর্তীতে আমি মেয়র হওয়ার পর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু সংস্কার কাজের বেশি কিছু করতে পারিনি। ফলে স্টেডিয়াম চালু করা যায়নি। এবার আমরা একটি সুসংহত পরিকল্পনা করেছি। প্রায় সওয়া এক কোটি টাকার বাজেট তৈরি করা হয়েছিল। সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন। এবার আমরা স্টেডিয়ামের কাজ দ্রুত শেষ করে তা চন্দননগরবাসীর হাতে তুলে দেব।’ চন্দননগর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডে ওই স্টেডিয়ামটি আছে। সেখানকার কাউন্সিলার পাপিয়া সিংহরায় বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। একজন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্টেডিয়ামের কঙ্কাল দেখছিলাম। খুবই আফশোস হতো। এবার স্টেডিয়াম নব কলেবরে সাজবে।’ এ শহরের বাসিন্দা চিত্রশিল্পী সজল মিত্র বলেন, ‘ঐতিহ্যের শহরের মুকুটে নতুন পালক জুড়বে এর থেকে ভালো কথা হতেই পারে না। ভালো স্টেডিয়াম না থাকায় ক্রীড়া প্রেমীদের ভদ্রেশ্বরের মাঠে যেতে হয়। এবার সেই সমস্যা মিটবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯১ সালে বিবিরহাট চড়কতলার পাল পরিবার দু’বিঘে জমি দান করেছিলেন। সেই জমিতে তদানীন্তন বাম সাংসদ রূপচাঁদ পালের তহবিলের টাকায় স্টেডিয়াম তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। প্রয়াত ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী শিলন্যাস করে গিয়েছিলেন। গ্যালারি, সীমানা প্রাচীর তৈরি হয়েছিল। খেলোয়াড়দের জন্য ঘরও হয়েছিল। বাম সাংসদ বা সরকার কাজ শেষ করেনি। পরে পুরসভা সেখানে প্রবেশদ্বার তৈরি করার পাশাপাশি কিছু সংস্কার কাজ চালানো হয়। কিন্তু খেলার উপযোগী করে তোলা যায়নি। এবার সেই কাজেই হাত দিচ্ছে পুরসভা। নিজস্ব চিত্র