নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিড়িয়ামোড়, দমদম রোড, সেভেন ট্যাঙ্কস, বীরপাড়া সহ দমদমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জমা জলের সমস্যা রয়েছে। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই রাস্তা ভাসে। ব্রিটিশ আমল থেকে এই অঞ্চল কলকাতা পুরসভার আওতাভুক্ত হলেও এখানে কোনওকালে ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা ছিল না। যা রয়েছে, তা খোলা নর্দমা। কোথাও কোথাও অবশ্য সেগুলি ঢাকা দেওয়া হয়েছে। অলিগলির হালও সমান। এই অঞ্চলে জমা জলের সমস্যা দূর করতে ২.৭ কিমি পথে নতুন করে ভূগর্ভস্থ নিকাশি পাইপ পাতার কাজ শুরু হচ্ছে। যা বীরপাড়া পাম্পিং স্টেশনে যুক্ত হবে। আগামী সপ্তাহে মেয়র ফিরহাদ হাকিম সেই কাজের সূচনা করবেন। বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি এই অঞ্চলের বিভিন্ন অলিগলিতে ভূগর্ভস্থ নিকাশিনালা তৈরির জন্য আরও ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পুরসভার নিকাশি বিভাগ জানাচ্ছে, এই নতুন পাইপলাইন তৈরি হলে ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। চিড়িয়ামোড় থেকে দমদম রোড ধরে ছানাপট্টি হয়ে মূল নিকাশি লাইন বীরপাড়া নিকাশি পাম্পিং স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে। সেই জল যাবে বাগজোলা খালে। এর ফলে দমদম অঞ্চলের চিড়িয়ামোড়, সব্জি বাগান, সেভেন ট্যাঙ্কস, নিকাশিপাড়া, বীরপাড়া, রাজাবাগান, টিকিয়াপাড়া, পঞ্চাশ ফুট এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি মিটবে। বিভাগীয় কর্তারা জানাচ্ছেন, মূল রাস্তার নীচে প্রমাণ সাইজের নিকাশি পাইপলাইন পাতা হবে। রাজাবাগান অঞ্চলের বিভিন্ন নর্দমা এসে যুক্ত হবে ওই নালায়।
১ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান তরুণ সাহা বলেন, বর্তমানে এই সমস্ত অঞ্চলে বৃষ্টির জল জমে থাকে। আর কে ঘোষ রোডে একটি পাম্পিং স্টেশন রয়েছে। সেখান থেকে নিকাশির জল বীরপাড়ায় যায়। কিন্তু এই পাম্পিং স্টেশনের কার্যক্ষমতা বেশি নয়। তরুণবাবু বলেন, যেহেতু এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা যথাযথ নেই, তাই গোটা ওয়ার্ডেই কমবেশি জল জমে থাকে। এবার এই সমস্যা মেটাতে বীরপাড়া পাম্পিং স্টেশন পর্যন্ত সরাসরি নতুন পাইপলাইন বসানোর কাজ হবে। পাশাপাশি অলিগলির নিকাশি ব্যবস্থাও তৈরি করা হবে।
এছাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ডাঃ কাকলি সেন বলেন, ‘যখন ভোটের প্রচারে বেরিয়েছিলাম, তখন কমবেশি সকলেই জমা জলের ভোগান্তির কথা বলেছিলেন। পরে কাউন্সিলার হওয়ার পর বুঝেছি, সেই কাজ এত সহজ ছিল না। গোটা ওয়ার্ডের নিকাশি ব্যবস্থা নতুন করে তৈরি করা প্রয়োজন। বহু জটিলতা ছিল। অবশেষে এই কাজ শুরু হতে চলেছে। মেয়র পরিষদ তারক সিং বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। একাধিকবার এখানে এসে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সমস্যার গভীরতা বুঝেছেন।’