নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন আমলার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। ওই আইএএস অফিসার জ্যোতিস্ময় চট্টোপাধ্যায় সেই সময় ডাইরেক্টর অব লোকাল বডিস (ডিএলবি) পদে ছিলেন। এই ডিএলবি’র হাত ধরেই নিয়োগ চূড়ান্ত হয় বলে খবর। এখন তিনি অবসর নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, দুর্নীতি হচ্ছে জেনেও, ওই আমলা কোনও ব্যবস্থা নেননি। সেই কারণে তাঁর নাম চার্জশিটে রাখা হয়েছে। অয়ন শীলের সংস্থার নামও রয়েছে। একইসঙ্গে এই মামলায় শুক্রবারই চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিয়ে দিল এজেন্সি।
স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। সেখান থেকে পুর নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করে তারা। গ্রেপ্তার করা হয় অয়ন শীলকে। পরে এর তদন্তভার নেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় এজেন্সি তদন্তে নেমে দেখে, একাধিক পুরসভায় বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। অয়ন শীলের সংস্থা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। অকৃতকার্য হওয়া প্রার্থীরাই পুরসভার বিভিন্ন পদে চাকরি পান বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে বিপুল টাকা তুলে তুলেছেন অয়ন শীল। তাঁর বাড়িতে ফাঁকা ওএমআর শিট পুরণ করা হয়েছে। এজেন্সির তদন্তে উঠে আসে, ডিএলবি নিয়োগপত্র দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। যোগ্যদের পরিবর্তে অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে জেনেও দপ্তরের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কোন এজেন্সি বরাত পাবে, তাও ডিএলবির অধীনে পড়ে। অভিযোগ, চাকরির নিয়োগপত্র তৈরি হয়েছে অয়ন শীলের বাড়িতে। তা ডিএলবিতে গিয়েছে। দপ্তর কেবলমাত্র নিয়োগপত্রগুলি ইস্যু করেছে। অযোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা আগেই ডিএলবি দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছিল অয়ন শীলের কোম্পানি। সিবিআই তদন্তে উঠে আসে, ২০১৭-১৯ পর্যন্ত পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে ছিলেন এই আমলা। ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় এজেন্সি। তা ঘেঁটে তদন্তকারীরা দেখেন, অয়ন শীলের কোম্পানিকে নিয়োগ এবং অযোগ্যদের নিয়োগপত্র ইস্যু করার বিষয়ে পুরোটাই জানতেন ওই আমলা। কোনও নিয়ম না মেনেই অয়নের কোম্পানিকে নিয়োগ করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে ওই আমলার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। সেখানে এজেন্সি উল্লেখ করেছে দুর্নীতি হচ্ছে জেনেও তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। এমনকী অয়নের সংস্থা যে নিয়োগের নামে টাকা তুলছে, সেই বিষয়টি সামনে এলেও, কোনও পদক্ষেপ ওই আমলা করেননি বলে অভিযোগ। নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক বেনিয়ম হলেও, তিনি চুপ করে ছিলেন। একইসঙ্গে অয়নের কোম্পানির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়েছে। চূড়ান্ত চার্জশিট হয়ে যাওয়ায় দ্রুত বিচারপর্ব শুরু করতে চাইছে সিবিআই।