Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হাতাতে মহিলাদের নথি চুরি পুরকর্মীর!

মহিলাদের নথি হাতিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত খোদ কলকাতা পুরসভার কর্মী। হাতানো নথির ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে জমা করিয়েছেন টাকা।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হাতাতে মহিলাদের নথি চুরি পুরকর্মীর!
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহিলাদের নথি হাতিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত খোদ কলকাতা পুরসভার কর্মী। হাতানো নথির ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে জমা করিয়েছেন টাকা। যাঁদের নথি ব্যবহার করা হল, তাঁরা জানতেই পারেননি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের  সুবিধাভোগী তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে। অথচ এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেও কেন টাকা পাচ্ছেন না, তা নিয়ে মহিলাদের ক্ষোভ ছিল। কেন মিলছে না টাকা, জানতে গেলে বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই এক মহিলার তরফে অভিযোগ হয় গিরিশ পার্ক থানায়। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

ওই মহিলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কীভাবে পাওয়া যাবে, তা জানতে পুরসভার গিরিশ পার্ক এলাকায় পাঁচ নম্বর বরোতে গিয়েছিলেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ বিভিন্ন স্কিমের টাকা পাচ্ছিলেন না। দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বসলেও, সে সময় সমস্যা থাকায় যেতে পারেননি। মহিলার অভিযোগ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদনের জন্য তাঁর কাছে ভোটার ,আধার প্যান, অ্যাকাউন্ট নম্বর সহ সমস্ত নথি নেওয়া হয়। একটি ফর্মও ফিলাপ করানো হয়। অভিযোগকারিনীর দাবি, তাঁকে বলা হয়, তাঁর আবেদন মঞ্জুর হলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নির্দিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। যাতে প্রাপকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যায়। মহিলার নথি হাতিয়ে অভিযুক্ত কলকাতা পুরসভার কর্মী আবেনকারীর নামেই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট  খোলেন। সেখানে অন্য মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। এরপর আবেদনপত্রে প্রতারক নিজের অ্যাকাউন্ট নম্বরটি বসিয়ে দেয়। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিজের মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করিয়ে নেয়। এভাবে ২০২২ থেকে ওই মহিলার নামে পুরসভার ওই কর্মী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলে নিচ্ছিল বলে অভিযোগ। তিন বছর পার হয়ে গেলেও, আবেদন মঞ্জুর না হওয়ায় মহিলা খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চলছে, অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা জমা পড়ছে। এরপরই তিনি গিরিশ পার্ক থানায় অভিযোগ করলে পুলিস প্রতারণা, জালিয়াতি সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। 
তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা একা এই ধরনের ঘটনার শিকার হননি। অনেকেই তিন–চার বছর আগে আবেদন করে এই প্রকল্পের টাকা পাননি। জানা যাচ্ছে, এই মহিলাদের নামেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা উঠছে। অভিযোগ, বিভিন্ন বরো অফিসে রীতিমতো চক্র গড়ে এই কাজ চলছে। যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এই বিষয়ে পুরসভার এক কর্তা জানিয়েছেন থানায় অভিযোগ হওয়ার পর অভিযোগকারিনী ও অভিযুক্তকে ডেকে পাঠিয়ে বক্তব্য শোনা হয়। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা তদন্ত করছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ