নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে রাস্তা। কুড়িটিরও বেশি বাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়েও ঘর ছেড়ে যেতে চাইছিলেন না হাওড়ার বেলগাছিয়ার ভাগাড় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। সোমবার বস্তির বাসিন্দারা পানীয় জল ও পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভও শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই হাওড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। অন্যদিকে এদিন ভাগাড়ের ভূমিধস পরিস্থিতি দেখতে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বিক্ষোভকারীদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন। তারপর ওঠে বিক্ষোভ। তবে তিনদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে পরিষেবার কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দেন বাসিন্দারা। ফিরহাদ বলেন, ‘অবৈজ্ঞানিকভাবে তৈরি এই ভাগাড়ের পাশে কিছু জবরদখলকারী রয়েছেন। তাঁরা গরীব মানুষ। অন্যত্র যাওয়ার কোনও জায়গা নেই। ওঁদের বিকল্প বাড়ি তৈরি করে দেবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।’ জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির তালিকা তৈরি করছে প্রশাসন। সয়েল টেস্টের রিপোর্ট জমা পড়ার পর বোঝা যাবে, ওই এলাকায় তাঁদের জন্য নতুন ঘর তৈরি সম্ভব কি না। না হলে বিকল্প জায়গা দেখে নয়া বাড়ি তৈরি করা হবে।
গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বেলগাছিয়া ভাগাড়ে বড়সড় ভূমিধস নামে। গোটা এলাকায় ফাটল ধরে যায়। ঝিল রোড ও এফ রোড সংলগ্ন বস্তি এলাকার কুড়িটিরও বেশি বাড়ি ভেঙে পড়ে। রাস্তাঘাট, নিকাশি বিপর্যস্ত। প্রশাসন বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে লাগাতার আবেদন জানিয়ে চলেছে। তবে সোমবার পর্যন্তও কাউকে নড়ানো যায়নি। সোমবার দুপুরে বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। ভাগাড়ের সাইট অফিসে জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া, পুলিস কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী, হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী, পুর কমিশনার বন্দনা পোখরিওয়াল, হাওড়ার দুই বিধায়ক, গৌতম চৌধুরী ও কল্যাণ ঘোষের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন। ততক্ষণে সাইট অফিসের সামনে জড়ো হয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের কেউ আবর্জনা সংগ্রহ করেন, কেউ নর্দমা পরিষ্কারের কাজ। কেউ আবার একশো দিনের কাজে যুক্ত। এই এলাকায় এমন কয়েকশো পরিবার আছে। ভূমিধসের জেরে বিপুল ক্ষতি হয়েছে তাঁদের বাড়িঘর। সাইট অফিসে বৈঠক সেরে বেরিয়েই বিক্ষুব্ধদের মুখোমুখি হন ফিরহাদ। তারপর তিনদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর ওঠে বিক্ষোভ। রাকেশ পাসওয়ান, মহেশ মল্লিক, পূর্ণিমা রায় নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘কয়েকশো পরিবার এখানে থাকে। শহরের আবর্জনা পরিষ্কার, নিকাশির কাজ করি আমরা। ধসের পর এখানে থাকা সম্ভব নয়। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। তিনদিন দেখা যাক। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে রাস্তায় নামতে বাধ্য হব।’ নিজস্ব চিত্র