Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রয়োজনে একাধিক হিয়ারিং, সুপ্রিম নির্দেশের পরও হয়রান জনতা, বিএলওদের নথি যাচাই বাতিল, ‘কাঠগড়ায়’ ১ কোটি ৩৬ লক্ষই

কমিশন মনে করলে তাঁদেরও ফের হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে

প্রয়োজনে একাধিক হিয়ারিং, সুপ্রিম নির্দেশের পরও হয়রান জনতা, বিএলওদের নথি যাচাই বাতিল, ‘কাঠগড়ায়’ ১ কোটি ৩৬ লক্ষই
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী কাল, শনিবারের মধ্যে ‘সন্দেহজনক’ ভোটার বা লজিকাল ডিসিক্রিপেন্সির তালিকায় থাকা ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ হবে। আর সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশই এবার হতে চলেছে মানুষের হয়রানিতে কমিশনের নয়া অস্ত্র! কারণ, শুনানি দ্রুত মেটানোর জন্য বিএলও স্তরে যে যাচাই প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছিল, তার সবটাই খারিজ হয়ে যাচ্ছে। এবং সূত্রের খবর, ওই ১ কোটি ৩৬ লক্ষের তালিকায় থাকা সকলকেই নথি পেশ করতে হবে। যাঁদের আগে এই প্রক্রিয়া মিটে গিয়েছে, তাঁরাও যে স্বস্তিতে থাকবেন তা নয়। কমিশন মনে করলে তাঁদেরও ফের হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে। অর্থাৎ, তাঁদের নথি কমিশনের গ্রহণযোগ্য মনে না হলে ফের দাঁড়াতে হবে ‘কাঠগড়া’য়।

Advertisement

খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই ভোটারের সংখ্যা প্রকাশ করেছিল কমিশন। কমিশন জানিয়েছিল, ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে একাধিক বিভাগে ফেলে ‘সন্দেহজনক’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারও নিজের বা বাবার নামের বানানে গরমিল, কোনও ভোটারের আবার বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম। সেই ফারাক ৫০ বছরের বেশি হলেও মুশকিল! এই লজিকাল ডিসিক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট বিএলওদের সন্দেহজনক ভোটারদের তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বলা হয়েছিল, এইসব ভোটারের কাছ থেকে নথি সংগ্রহ করে তা বিএলও অ্যাপ মারফত আপলোডও করতে হবে। সেই কাজ শেষ হওয়ার পর কমিশন জানায়, বিএলওরা যে নথি আপলোড করেছেন তাতে সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজারে। অর্থাৎ, ৪১ লক্ষ ৫১ হাজার ভোটার আর সন্দেহজনকের তালিকায় নেই। পরবর্তীতে আবার দেখা যায় এই ৪১ লক্ষ ৫১ হাজার ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হলেও তারমধ্যে ১৪ লক্ষ ভোটারের নথি বাস্তবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত কমিশনের খাতায় সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৮ লক্ষের আশপাশে।

কিন্তু এখন সেসব হিসাব অতীত। জানা যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পঞ্চায়েত বা শহুরে এলাকার ওয়ার্ড অফিসে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির গোটা তালিকা প্রকাশ করা হবে। এবং প্রত্যেকেই যাতে শুনানির সম্মুখীন হয়ে নথি পেশ করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে আরও জানা যাচ্ছে, তালিকায় নাম থাকা কোনও ভোটারের ‘আপত্তি’ থাকলে সেই আপত্তির কারণ জানিয়ে তাঁকে উপযুক্ত নথি জমা দিতে হবে। ফলে শুনানির চাপ আরও বাড়তে চলেছে বলেই জানা যাচ্ছে।

কমিশনের এক কর্তার কথায়, ‘সন্দেহজনক ভোটারদের ক্ষেত্রে বিএলওদের জমা দেওয়া নথি যাচাই করেই সন্দেহজনক ভোটারের তালিকা থেকে প্রায় ৪১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে, ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নামই প্রকাশ করতে হবে। ফলে ওই তালিকায় নাম থাকা প্রত্যেকেই নথি দিতে হবে।’ আম জনতার জন্য এর সারমর্ম কী? হয়রানি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ