Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫১ মাস সাম্মানিক বকেয়া কাজ হারানো শিক্ষকদের

৫১ মাস সাম্মানিক বকেয়া কাজ হারানো শিক্ষকদের
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, তেহট্ট: স্কুলের কাজ আর নেই। সাম্মানিকও মেলে না। বকেয়া সাম্মানিকের জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু এখনও ভোটের ডিউটি আসছে স্পেশাল ট্রেনিং সেন্টার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। শিশুশ্রমিকদের পড়াশোনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এই সমস্ত স্কুল চালু করেছিল। পরে তা অন্য স্কুলের সঙ্গে সংযুক্ত করলে এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা কাজ হারান। প্রায় ৫১ মাসের সাম্মানিক বকেয়া রয়েছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের কেউ টোটো চালাচ্ছেন, কেউ ফটোগ্রাফি বা গৃহশিক্ষকতা করে সংসার চালাচ্ছেন। সমগ্র শিক্ষা মিশনের জেলাস্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।
Advertisement
২০০৯ সালে বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকার এই স্কুল খোলে। তখন এর নাম ছিল চাইল্ড লেবার স্কুল। পরে নাম বদলে করা হয় স্পেশাল ট্রেনিং সেন্টার। নদীয়া জেলায় ১০০টি এরকম স্কুল তৈরি করা হয়। পরে ১৫টি বন্ধ হলেও বাকিগুলি চলছিল। প্রতিটি স্কুলে একজন এডুকেশনাল ইনস্ট্রাক্টর, ক্লার্ক কাম হিসাবরক্ষক ও পিয়ন নিয়োগ হয়েছিল। প্রতি তিনটি স্কুলপিছু একজন ভোকেশনাল ইন্সট্রাক্টর ছিলেন। প্রথমদিকে এডুকেশনাল ইনস্ট্রাক্টররা ১৫০০, ক্লার্করা ১৪০০ ও পিয়নরা ৮০০ টাকা করে পেতেন। পরে তা অনেকটা বাড়ানো হয়। প্রথম থেকেই সাম্মানিক অনিয়মিত ছিল। ২০২০ সালে এই সমস্ত স্কুল সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীনে অন্য স্কুলের সঙ্গে যোগ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ যাঁরা ২০০৯ সাল থেকে এসব স্কুল চালিয়ে এসেছেন, তাঁদের কথা একবারের জন্যও ভাবা হয়নি। এই সংযুক্তির আগে তাঁদের ৫১মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এক-একজন এডুকেশনাল ইন্সট্রাক্টর পাবেন ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। ভোকেশনাল ইন্সট্রাক্টররা পাবেন ৩ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা করে। ক্লার্করা ১ লক্ষ ৭০হাজার টাকা ও পিয়নদের ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা করে বকেয়া আছে। বকেয়া চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও তাঁরা টাকা পাননি। কাজ হারিয়ে তাঁদের বেশিরভাগই অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে স্কুল বন্ধ হলেও তাঁদের ভোটের ডিউটি আসা বন্ধ হয়নি।
সিরাজুল মণ্ডল বলেন, বহুদিন ওই স্কুলে কাজ করে টাকা পাইনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীর গয়না বেচে টোটো কিনে চালাচ্ছি। আমাদের কথা ভাবার সময় সরকারের নেই। 
স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাশনাল চাইল্ড লেবার ওয়েলফেয়ার স্কুলের নদীয়া জেলা কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় মিত্র বলেন, আমরা শুনেছি এসমস্ত স্কুল সমগ্র শিক্ষা অভিযানের আওতায় চলে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের সাম্মানিক বকেয়া আছে। বারবার আবেদন করেও টাকা পাইনি। বকেয়া মেটানো ও কাজের দাবিতে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। হাইকোর্ট রাজ্য ও কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। এখন দেখা যাক কী হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ