সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: চাকরিজীবী মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বছরে ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়করে ছাড় দিয়ে প্রবল বাহবা কুড়োনোর চেষ্টা চালাচ্ছে মোদি সরকার। কিন্তু আম আদমি আদৌ কি সমস্যার বোঝা থেকে মুক্তি পেয়েছে? প্রতিমার সামনের সৌন্দর্য্যে সম্মোহিত হলেও কাঠামোয় পিছনে যেমন খড়, দড়ি, বাঁশ বেরিয়ে থাকে, মোদি সরকারের অবস্থা ঠিক তাই। আর নিদারুণ বাস্তবটা ধরা পড়ছে হিসেবের খাতাতেই। ঋণের বোঝার সঙ্গে দিনদিন বাড়ছে সুদের অঙ্ক। স্রেফ সুদ মেটাতেই কেন্দ্রের কোষাগার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে লক্ষ কোটি টাকা। কীভাবে? আগামী অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) মোট ৫০ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা খরচ করবে বলেই সংসদে বাজেট পেশ করেছে কেন্দ্র। সরকারি হিসেব বলছে, তার মধ্যে স্রেফ সুদ মেটাতেই ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা চলে যাবে। অর্থাৎ, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্র যত টাকা খরচ করবে বলে ঠিক করেছে, তার ২৫.২ শতাংশ চলে যাবে শুধুই ঋণের সুদ মেটাতে। আর এই পাহাড়প্রমাণ সুদের বাড়তি বোঝা বইতে হবে আম জনতাকেই। আয়কর তো বটেই, পাশাপাশি সরকার এই বিপুল অঙ্ক মেটাতে নিত্য ও ভোগ্যপণ্যের উপর কর বা সেস চাপাবে। এবং নতুন করে বহু পণ্য চলে আসবে করের আওতায়। অর্থাৎ, ঘুরপথে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করবে মোদি সরকার।
Advertisement
সোজা কথায়, ক্রমশ খারাপ হচ্ছে দেশের অর্থ ভাণ্ডারের হাল। আরবিআই হোক বা বিশ্ব ব্যাঙ্ক, যেখান থেকেই কেন্দ্র ধার করুক না কেন, তার সুদ গুনতে হবেই। আর এই সুদ মেটানোর অঙ্কই নিত্যদিন বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে মোট ধারের উপর ৯ লক্ষ ২৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা সুদ দিতে হয়েছে মোদি সরকারকে। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সুদ মেটাতে গিয়েছে ১০ লক্ষ ৬৩ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেটি হয়েছে ১১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। ফলে সাধারণ মানুষের উপর গড় ঋণের বোঝা তো বাড়ছেই, রাজকোষ থেকে কেবল সুদ দিতেই বেরিয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ টাকা। বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ধরলে দেশে-বিদেশে ১৮১ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা ঋণ মেটাতে হচ্ছে ভারতকে। আগামী বছর সেটাই বেড়ে হবে ১৯৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। তাই সরকার সংসদে যতই হাততালি কুড়োক না কেন, ঝুঁকি বাড়ছে। মূল্য চোকাচ্ছে? আম আদমি।
এই আবহে আজ সোমবারও লোকসভায় চলবে বাজেট বিতর্ক। আগামী কাল, মঙ্গলবার জবাবী ভাষণ দেবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে ধরমবীর গান্ধী, বিরোধীদের তোলা প্রশ্নের জবাব দেবেন তিনি। বলাই বাহুল্য, ২৭ বছরের খরা কাটিয়ে দিল্লি বিধানসভা জয়ের পর সংসদে বিরোধীদের উপর ‘আপারহ্যান্ড’ নেওয়ার চেষ্টা করবে বিজেপি। কিন্তু ‘মোদি মোদি’ স্লোগান কি শোনা যাবে? কারণ, নির্মলার জবাবের সময় প্রধানমন্ত্রী তো ফ্রান্সে। সংসদ চললেও আজ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর সফরসূচিতে সংসদ নেই। আছে ফ্রান্স ও আমেরিকা।
এই আবহে আজ সোমবারও লোকসভায় চলবে বাজেট বিতর্ক। আগামী কাল, মঙ্গলবার জবাবী ভাষণ দেবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে ধরমবীর গান্ধী, বিরোধীদের তোলা প্রশ্নের জবাব দেবেন তিনি। বলাই বাহুল্য, ২৭ বছরের খরা কাটিয়ে দিল্লি বিধানসভা জয়ের পর সংসদে বিরোধীদের উপর ‘আপারহ্যান্ড’ নেওয়ার চেষ্টা করবে বিজেপি। কিন্তু ‘মোদি মোদি’ স্লোগান কি শোনা যাবে? কারণ, নির্মলার জবাবের সময় প্রধানমন্ত্রী তো ফ্রান্সে। সংসদ চললেও আজ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর সফরসূচিতে সংসদ নেই। আছে ফ্রান্স ও আমেরিকা।



