


সোহম কর, কলকাতা: দুর্গাপুজোর নিরিখে দক্ষিণ কলকাতার প্রাণকেন্দ্র কোনটা? পুজোপ্রেমীরা সমস্বরে বলবেন—রাসবিহারী মোড়। আলোর সাজে জমজমাট এই মোড় থেকে একটু দূরেই রয়েছে প্রাচীন দুই ক্লাব—মুদিয়ালি ও শিবমন্দির। দু’জায়গাতেই এবার থিমের ঘনঘটা। ৯১ বছরের মুদিয়ালিতে এবারের থিম ‘আত্মশুদ্ধি’। আর শিবমন্দিরে দেখা যাবে মনসা পুজো। অসংখ্য গ্রামবাসী মণ্ডপে এসে গাইবেন ‘বিষহরি’ গান। শহরের বুকে উঠে আসবে হারিয়ে যেতে বসা এক গ্রাম্য চিত্র।
পুজোর থিমে ফি বছর চমক দেয় মুদিয়ালি। এবছর তাদের ভাবনা ‘আত্মশুদ্ধি’। শিল্পী বিমান সাহার কথায়, ‘আগুনে পোড়ার পর মনের যে শুদ্ধিকরণ, সেটাই পোড়া মাটির কাজ দিয়ে দেখানো হবে।’ তবে চমকের এখানেই শেষ নয়। মোট ২২টি ‘মুভিং অবজেক্ট’ চলমান বস্তু থাকবে মণ্ডপে। যেমন—আগুনের চিমনি। তার মধ্যে থেকে দেখানো হবে মায়ের উত্স। থিম ভাবনায় যত পরিবর্তনই আসুক না কেন, মুদিয়ালির প্রতিমা সব সময়ই সাবেকি। এই প্রসঙ্গে বিমানবাবু বলেন, ‘এবারেও প্রতিমা সাবেকি। তবে থিমের সঙ্গে মানিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমার সাজসজ্জা।’ গত তিন পুরুষ ধরে মুদিয়ালির প্রতিমা নির্মাণ করছেন অসিত পাল। এবারেও তার অন্যথা হচ্ছে না। তৃতীয়া থেকেই মণ্ডপ জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
মুদিয়ালির কাছেই কলকাতার পুজো মানচিত্রের অপর এক জনপ্রিয় ক্লাব—শিবমন্দির। সেখানেও জোরকদমে চলছে মণ্ডপসজ্জা। এবছর তাদের থিম ‘বিষহরি’। গ্রামবাংলার প্রাচীন মনসা পুজোকে তুলে ধরছেন উদ্যোক্তারা। অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ১০০ ফুটের সাপ। হবে বিষহরির গানও। শিবমন্দির পুজো কমিটির সম্পাদক পার্থ ঘোষ জানান, একটা সময় গ্রামেগঞ্জে সাপ কামড়ালে মনসা পুজো হতো। ওঁদের বিশ্বাস ছিল, গান গাইলে বিষ বেরিয়ে আসবে। সেই ‘বিষহরি’ গানই আমাদের থিম। এখন এই গান প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। মেদিনীপুর থেকে ৩০ জনের একটি দল আসছে। তাঁরা তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে মণ্ডপে গান গাইবেন। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী প্রশান্ত পাল।