Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

মৌসুমীর জন্মদিনের রিটার্ন গিফট

আজ শনিবার ‘বালিকা বধূ’র জন্মদিন। মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। বাঙালি মননে এই ৭৭ বছর বয়সেও তিনি ‘বালিকা বধূ’

মৌসুমীর জন্মদিনের রিটার্ন গিফট
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

পূর্বাশা দাস: আজ শনিবার ‘বালিকা বধূ’র জন্মদিন। মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। বাঙালি মননে এই ৭৭ বছর বয়সেও তিনি ‘বালিকা বধূ’। বিবাহসূত্রে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ তিনি। কিন্তু নিজের অভিনয় দক্ষতায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। সময় এগিয়েছে, চেহারায় পড়েছে বয়সের ছাপ। তবুও তাঁর সারল্য হারায়নি। তিনি বাঁচেন নিজের ছন্দে।

Advertisement

সদ্য মুক্তি পেয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর ছবি ‘আড়ি’। সেই উপলক্ষ্যে কলকাতায় এসেছিলেন মৌসুমী। স্পষ্ট বললেন, ‘আমার এবছরের জন্মদিনে আপনাদের জন্য রিটার্ন গিফট ‘আড়ি’। ভাব জমানোর জন্য ভালোবাসার ‘আড়ি’। কলকাতার সঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর নাড়ির টান। দীর্ঘ অভিনয় জীবন তাঁর। আজও ভালো চিত্রনাট্য তাঁকে আনন্দ দেয়। মৌসুমীর কথায়, ‘আমার জন্মদাতা বাবা প্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু, আমাকে সিনেমা জগতে যিনি জন্ম দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন তিনি তরুণ মজুমদার। আমার শ্বশুরমশাই হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আমার জীবনের একটা অধ্যায়। উনি ছিলেন বলেই আমার হিন্দি ছবির কেরিয়ার শুরু হয়েছিল।’
উষ্ণতার উত্তাপে সেদিন খানিক ক্লান্ত কলকাতা। কিন্তু মৌসুমীর কথার উত্তাপে সকলের ক্লান্তি উধাও। ‘আমার শ্বশুরমশাইকে দেখেছি খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও কী রকম মাটির মানুষ ছিলেন। লতা মঙ্গেশকরের থেকেও শিখেছি অনেক কিছু। এখন অল্প সাফল্যেই অনেকের ইগো বড় হয়ে দাঁড়ায়। এটা কাম্য নয়। আমি ওঁদের থেকে শিখেছি যত ফল আর ফুল তোমার গায়ে লাগবে, তত তোমাকে ঝুঁকতে হবে। অর্থাৎ খ্যাতির শীর্ষে থেকেও মাটির কাছে নুইয়ে থাকতে হবে’, নিজের জীবনদর্শন ভাগ করে নিলেন মৌসুমী।
বাংলা ছবিতে প্রায় বারো বছর পর কাজ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। ইদানীং তিনি কি প্রস্তাব পান না? একপাশে পর্দার ‘ছেলে’ যশ এবং অন্যপাশে ‘বৌমা’ নুসরতকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বসে মৌসুমী বললেন, ‘ভালো ছবি কোথায় তৈরি হচ্ছে! ভালো ছবি বানাতে হবে তো! ভালো নির্মাতা কোথায়? ভালো ছবি তৈরির জন্য প্যাশন দরকার, টাকা দরকার। আমাকে প্রত্যেক বছর ছবির জন্য ডাকলেই আমি আসব।’ বরাবরই স্পষ্টবাদী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। বর্ণময় তাঁর জীবন। ‘ঈশ্বর ক’জনকে আমার মত জীবন দিয়েছেন! খুব অল্প বয়সে বিয়ে করে, সন্তানের মা হয়েছি। বাংলা এবং হিন্দি ছবিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছি’, বললেন অভিনেত্রী। তাঁর জীবনদর্শন অনন্য। জীবনে আঘাত এসেছে। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা সহ্য করেছেন মৌসুমী। নিজেকে ভালো রাখতে নিয়মিত মেডিটেশন করেন। তাঁর কথায়, ‘মন সুন্দর রাখা জরুরি। মন সুন্দর রাখতে গেলে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়। ক্ষমাশীল হতে হয়। ভালো কাজ করলে ভালো থাকা যায়। তাহলেই সেই ভালো থাকা ফুটে ওঠে বাহ্যিক সৌন্দর্যে।’ যেকোনও পরিস্থিতিতে স্পষ্ট কথা বলতে আজও পিছিয়ে যান না বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। সেটাই তাঁর শিক্ষা। ‘আমি বরাবর অপ্রিয় সত্য বলে ফেলি। তাই অনেকের কাছে প্রিয়পাত্র হতে পারিনি। সত্যি সহ্য করতে সবাই পারেন না’, বললেন তিনি।
এ যেন এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। হাসির ছলে জীবনের পাঠ দিয়ে গেলেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ