Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লুটেরা বিজেপির বিরুদ্ধে মা-বোনেরা রুখে দাঁড়ান, জিতবে বাংলাই: মমতা

‘স্বৈরাচারী বিজেপি। লুটেরার দল বিজেপি।’ দৃশ্যত ক্ষুব্ধ তিনি। বীরভূম হোক বা মুর্শিদাবাদ—বাংলার সাধারণ মানুষের হয়রানি যত সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ততই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

লুটেরা বিজেপির বিরুদ্ধে মা-বোনেরা রুখে দাঁড়ান, জিতবে বাংলাই: মমতা
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০৪
Prefer us on Google

অভিষেক পাল ও পিনাকী ধোলে: নবগ্রাম ও নানুর: ‘স্বৈরাচারী বিজেপি। লুটেরার দল বিজেপি।’ দৃশ্যত ক্ষুব্ধ তিনি। বীরভূম হোক বা মুর্শিদাবাদ—বাংলার সাধারণ মানুষের হয়রানি যত সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ততই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মানুষের হয়রানির উদাহরণ তুলে ধরে বুধবার জননেত্রী বলেন, ‘ভাগাভাগির খেলা কেন? হিম্মত থাকলে সামনে থেকে লড়ো। তোমরা সংখ্যালঘুদের নাম যেমন কেটেছে, তেমন হিন্দুদেরও নাম কেটেছে। তফসিলি আদিবাসীদের ভাগাভাগি করার চেষ্টা করছে। এসআইআর করে মহিলাদের নাম সব থেকে বেশি কেটেছে।’ এর পিছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত দেখছেন তৃণমূল নেত্রী। তাই গেরুয়া বাহিনীর ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র বিরুদ্ধে বাংলার মা-বোনেদেরই রুখে দাঁড়ানোর ডাক দিলেন তিনি। বাংলার ‘নারীশক্তি’র উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, এসআইআরের লাইন, গ্যাসের লাইনে দাঁড়ানোর প্রতিবাদে বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিজনদের পিটিয়ে হত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন। 

Advertisement

বুধবার তিনটি জনসভা করেন মমতা। প্রথমে নানুর, পরে বড়ঞা এবং শেষে নবগ্রাম। বড়ঞা থেকে তাঁর কপ্টার নবগ্রামের উদ্দেশে ওড়ে। কিন্তু দুর্যোগের কারণে মাঝপথেই ফিরে আসেন। তিনি জানতে পারেন, বৃষ্টির মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করছেন। তখনই গাড়িতেই ৪৯ কিমি দূরে নবগ্রামে পৌঁছান। জননেত্রী পৌঁছাতেই হাজারো মহিলা, পুরুষ ও যুবক-যুবতী উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। মহিলারা তাঁকে উলুধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানান। বৃষ্টির মধ্যেও দীর্ঘ এই অপেক্ষার হার না মানা ‘লড়াকু যোদ্ধা’দের কুর্নিশ জানান মমতা। কিন্তু নানুর থেকে নবগ্রাম, তাঁর বক্তব্যে এদিন মালুম পাওয়া গিয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে চিরাচরিত ঝাঁঝের। রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেছেন,  ‘অপদার্থ ভোট কাটারির দল মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। এরা মানুষ হত্যার দল, দাঙ্গাকারী দল।  স্বৈরাচারী ও ব্যভিচারী দলের লজ্জা নেই। আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বিজেপি নির্বাচন করছে। একদিকে নরেন্দ্র মোদি, আর একদিকে অমিত শাহ এবং সঙ্গে রয়েছে ভ্যানিশ কুমারের নির্বাচন কমিশন। সবাই মিলে অনেক জ্বালাচ্ছে। তাদের জবাব দিতে হবে।’
সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘অমিত শাহ সব ঝেঁটিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢোকাবে। এখানে এনআরসি করবে। কিন্তু, আমি থাকতে এখানে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। ওরা বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা দিল্লিকে টার্গেট করব। বাংলা নবজাগরণ করেছে, স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। আর সেই বাংলাকে বলছে, আমরা সবাই অনুপ্রবেশকারী! বিজেপি রাজনৈতিক দলটাই অনুপ্রবেশকারী।’
‘তৃণমূল সরকার মানুষের জন্য দরকার। বাংলায় সরকার গড়বে তৃণমূল’— এই অঙ্গীকার মমতা এদিনও করেছেন। নানুরের মঞ্চ থেকে তাঁর বার্তা, ‘বাংলা সবাইকে নিয়ে চলতে জানে। আমাদের ছেলেদের ভিন্ন রাজ্যে পিটিয়ে হত্যা করছে। বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশে বাংলার মানুষকে খুন করছে। এর বিচার আপনাদের করতে হবে। জবাব দিতে হবে মা-ভাই-বোনেদের।’ জনগর্জনে মেলে তার সম্মতি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ