Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রামপ্রসাদের ভিটেতে ১৪১ বছর ধরে মায়ের পুজো, ভোগে থাকে শোল কিংবা ল্যাটা মাছ

সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন ৩০০ বছর আগে হালিশহরের ভিটেতে কালী মায়ের আরাধনা করতেন। পরবর্তীকালে তাঁর আরাধ্যদেবীকে নিয়ে গঙ্গায় ডুব দেন তিনি। যা রামপ্রসাদের স্নানের ঘাট বলে পরিচিত।

রামপ্রসাদের ভিটেতে ১৪১ বছর ধরে মায়ের পুজো, ভোগে থাকে শোল কিংবা ল্যাটা মাছ
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন ৩০০ বছর আগে হালিশহরের ভিটেতে কালী মায়ের আরাধনা করতেন। পরবর্তীকালে তাঁর আরাধ্যদেবীকে নিয়ে গঙ্গায় ডুব দেন তিনি। যা রামপ্রসাদের স্নানের ঘাট বলে পরিচিত। ১৪১ বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে অসমের সুরেন্দ্র চন্দ্র চন্দ্ররায় কষ্টি পাথরের মূর্তি বানিয়েছিলেন। ওই মূর্তি রামপ্রসাদের ভিটেতে প্রতিষ্ঠা করা হয়। আজও রামপ্রসাদ বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী সেই মূর্তি পুজো হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। বহু বছর আগে কালীপুজোয় এখানে পশু বলি হতো। বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বদলে চালকুমড়ো, আখ ও শসা বলি দেওয়া হয়। সাধক রামপ্রসাদের নিয়ম মেনেই মাকে ভোগে খিচুড়ি, পোলাও, সবজি, পাঁচ রকমের ভাজা, চাটনি, মিষ্টান্ন এবং অনেক ধরনের মিষ্টি দেওয়া হয়। এক কথায় পঞ্চব্যঞ্জনে ভোগ দেওয়া হয় মাকে। এছাড়াও শোল বা ল্যাটা মাছ মাকে ভোগ দেওয়া হয়। আগামী সোমবার দীপাবলিতে নিত্যপুজোর পর রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ মন্দির বন্ধ করে মাকে সোনার গয়নায় সাজানো হবে। রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হবে দীপান্বিতার পুজো। রাতভর পুজো চলবে। দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্ত এসে পুষ্পাঞ্জলি দেন রামপ্রসাদের ভিটেতে। 

Advertisement

বর্তমানে মন্দির পরিচালনা করেন হালিশহর গুডউইল ফ্রেটারনিটি। সম্পাদক মাধব চক্রবর্তী বলেন, সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন নিজের হাতে গড়া মূর্তি নিয়ে গঙ্গায় ডুব দিয়েছিলেন। এরপর স্বপ্নাদেশে অসমের সুরেন্দ্রবাবু মায়ের বর্তমান মূর্তিটি করেছেন। নয় নয় করে এই মূর্তিও হয়ে গেল ১৪১ বছর। প্রতিদিন চার বেলা পুজো হয়, মাকে ভোগ দেওয়া হয়। রামপ্রসাদ সেন যেভাবে পুজো করতেন, সেই নিয়ম মেনেই নিত্যপুজো হয় মন্দিরে। ১৫ই অক্টোবর রামপ্রসাদ সেনের মূর্তি স্থাপিত হবে, সেখানেও পুজো হবে। এই মন্দিরের একটি বৈশিষ্ট্য হল, প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি অন্নকূট উৎসব হয়। হাজার হাজার মানুষ আসেন। জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার দিন শ’পাঁচেক মহিলা গঙ্গা থেকে কলসি করে জল নিয়ে এসে স্নান করান মাকে। হালিশহরে রামপ্রসাদের ভিটে বর্তমানে কালীপুজো উপলক্ষ্যে সেজে উঠছে। মাকে সকলে জগদীশ্বরী মা বলে ডাকেন। শ্যামাপুজোর রাতে পাঁচজন পুরোহিত মা’র পুজো করেন। হয় হোম-যজ্ঞ, আরতি, পুষ্পাঞ্জলি। ইতিমধ্যেই রামপ্রসাদের গানের কলি ‘মন রে কৃষিকাজ জানো না’ নিয়ে একটি সিনেমা হয়েছে। এই জায়গাটিকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পর্যটন দপ্তর ৪৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে।
হালিশহর পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, হালিশহরের মাটিতে সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন, রানি রাসমণি, বিপিন বিহারী গাঙ্গুলির মতো বিখ্যাত মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন। এই সব স্থান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘পর্যটনে হালিশহর’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। পুজোয় দর্শনার্থীদের যাতে অসুবিধা না হয়, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ