নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ছোটবেলায় ভূগোল বইয়ে মাউন্ট এভারেস্ট সম্পর্কে পড়ার সময় থেকেই পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ অভিযানে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তাঁর। কিন্তু ইচ্ছেপূরণের সময় বা সুযোগ বা সক্ষমতা হয়ে উঠছিল না। পর্বতারোহীদের এভারেস্ট অভিযানের ছবি, ভিডিও দেখে নিজেই নিজেকে আশ্বস্ত করতেন তিনি। অবশেষে ইচ্ছেপূরণ। এপ্রিলের শেষে ছেলেকে সঙ্গী করে মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্প (উচ্চতা ৫,৩৬৪ মিটার) অতিক্রম করলেন সোনারপুরের বাসিন্দা, পেশায় গৃহশিক্ষিকা সোনালি চট্টোপাধ্যায়। পুরো অভিযানটি গাইড ও মালবাহক (পোর্টার) ছাড়াই শেষ করেছেন তাঁরা। ক’দিন আগেই বাড়ি ফিরেছেন মা ও ছেলে। এই অভিযানকে স্বপ্নপূরণ হিসেবেই দেখছেন সোনালিদেবী। বাড়ি ফেরার পর মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে বললেন, ‘এভারেস্টের চূড়ায় না হয় যাওয়া গেল না, কিন্তু বেস ক্যাম্প পৌঁছনোটা কী কম বড় ব্যাপার!’ গত ১২ এপ্রিল সোনালিদেবী, ছেলে সাত্যকি ও তাঁর এক বন্ধু রওনা দেন রক্সৌল। ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় বেস ক্যাম্প যাওয়ার অভিযান। বরফঢাকা দুর্গম পথ অতিক্রম করে ২২ এপ্রিল এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছন তিনজন। সাত্যকিবাবু বলেন, ‘জামাকাপড় ছাড়াও খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়েছিলাম। নিজেরাই সেই ব্যাগ বহন করেছি। লাগেনি কোনও গাইড। আবহাওয়া ভালো থাকায় খুব বেশি সমস্যাও হয়নি আমাদের।’ তিনি আরও জানান, এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য অনেকটা পথ ট্রেকিং করতে হয়। বিষয়টি জানতে পারার পর থেকে কয়েক বছর আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন মা-ছেলে। একাধিক পাহাড়ে ট্রেকিং করেও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। গত বছর অন্নপূর্ণা সার্কিট অভিযান সফলভাবে করেছিলেন দু’জনে। সবটাই তাঁদের প্রস্তুতির অংশ ছিল। শেষ পর্যন্ত সফলভাবে অভিযান শেষ করেছেন সোনালিদেবী। প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছেশক্তি থাকলে স্বপ্নপূরণ করা যায়। পাহাড়কে ভালোবাসলে তাকে জয়ের সাহসও আসে নিজের মধ্যে থেকেই। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প অভিযানের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি তৈরি হচ্ছেন পরবর্তী অভিযানের জন্য।



