Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘নিধি কোম্পানি’ খুলে পশ্চিমবঙ্গ সহ সাত রাজ্য থেকে ১০ হাজার কোটি তোলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা-মেয়ে

‘নিধি কোম্পানি’ (অর্থলগ্নি সংস্থা) খুলে পশ্চিমবঙ্গ ওড়িশা সহ সাত রাজ্য থেকে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা ও মেয়ে। মা দীপিকা ভঞ্জ ও মেয়ে তন্দ্রা ভঞ্জ কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন।

‘নিধি কোম্পানি’ খুলে পশ্চিমবঙ্গ সহ সাত রাজ্য থেকে  ১০ হাজার কোটি তোলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা-মেয়ে
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘নিধি কোম্পানি’ (অর্থলগ্নি সংস্থা) খুলে পশ্চিমবঙ্গ ওড়িশা সহ সাত রাজ্য থেকে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা ও মেয়ে। মা দীপিকা ভঞ্জ ও মেয়ে তন্দ্রা ভঞ্জ কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বেপাত্তা এই দুই মহিলাকে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর-২ ব্লকের হামিরপুর থেকে পাকড়াও করেছে ওড়িশা পুলিসের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (ইওডব্লু)। এমনকী তাঁদের কোম্পানি বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা হাওলার মাধ্যমে বাংলাদেশ, চীন ও দুবাইতে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে খবর, দীপিকার স্বামী তুষার ভঞ্জ  হরিৎ কৃষি নিধি লিমিটেড, মেসার্স ট্রান্সভিশন ড্রিম মাল্টি ট্রেড প্রাইভেট লিমিটেড নামে কোম্পানি খোলেন। সবকটির ডিরেক্টর করেন স্ত্রী  ও মেয়েকে। তুষার নিজেও একটি কোম্পানি খুলে ডিরেক্টর বনে যান। সবকটির ঠিকানা দেখানো হয় পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতায় দুটি ও রাজ্যের আরও চারটি জেলায় অফিস খোলা হয় বলে অভিযোগ। নিধি কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, যে রাজ্যে কোম্পানি খোলা হয়েছে সেখানেই তারা ব্যবসা করতে পারবে। কিন্তু তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম ও ছত্তিশগড় থেকে টাকা তুলতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।  টাকা রাখার জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিঊবে প্রচার শুরু করেন।  কোম্পানির প্রচারের জন্য তুষার, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে সাধারণ মানুষকে নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন পাঁচটি রাজ্যে।  নিয়োগ করা হয় এজেন্ট। কোম্পানির তরফে বলা হয়, এখানে টাকা রাখলে ১১ শতাংশ সুদ মিলবে। নতুন সদস্য যোগ করলে অতিরিক্ত পাঁচ শতাংশ পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে কোম্পানির মোট লাভ থেকে প্রত্যেক আমানতকারীকে ৩৫ শতাংশ বোনাস দেওয়া হবে।
ওড়িশা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে তারা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় থেকে টাকা তোলা শুরু করে। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে বহু আমানতকারী টাকা রাখেন। তদন্তে উঠে এসেছে, এই রাজ্য থেকেই ১৫ হাজারের বেশি আমানতকারী রয়েছেন। চিটফান্ডের কায়দায় তারা বাজার থেকে টাকা তুলতে শুরু করে। এখানে ব্যবসা বাড়ার পর ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ত্রিপুরা, মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়ে একাধিক অফিস খোলা হয়। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা নগদ সংগ্রহ হতো।
 ও঩ড়িশার ভুবনেশ্বরের এক বাসিন্দা এই নিধি কোম্পানিতে ২.১৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন।  টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি ওড়িশা পুলিসের ইওডব্লুতে অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে তারা দেখে, সমস্ত জায়গাতেই এই নিধি কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়েছে। এরপর গত বছরের জুন মাসে কোম্পানির কর্ণধার তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি তদন্তকারীদের জানান বিগত তিন চার বছরে এই কোম্পানি দশ হাজার টাকার কাছাকাছি বাজার থেকে তুলেছে। কেউ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন। এই টাকা তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের একাধিক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়েছে। তুষার গ্রেপ্তারের পরই গা-ঢাকা দিয়েছিল তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের খোঁজ করছিল ওড়িশা পুলিস। গোপন সূত্রে জানা যায়, মা ও মেয়ে রামনগরের গ্রামে গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেপ্তার করে ইওডব্লু। ট্রানজিট 
রিমান্ডে তাঁদের ভুবনেশ্বর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে হাওলা করেছেন মা-মেয়ে। বিপুল পরিমাণ টাকা চীন ও দুবাইতে পাঠিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। কোম্পানির ডিরেক্টররা আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থে যে ব্যক্তিগত সম্পত্তি করেছিলেন, এই রাজ্যে সেগুলি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই একটি ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ