


লখনউ: শতাব্দী প্রাচীন লাল বরাদরি মসজিদ রয়েছে লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই। ব্যবহারের অযোগ্য জানিয়ে সম্প্রতি সেই মসজিদ সিল করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রমজান মাসে এই সিদ্ধান্তে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদে রবিবার মসজিদের বাইরে নামাজ পড়লেন মুসলিম ধর্মাবলম্বী পড়ুয়ারা। আর মানববন্ধন করে তাঁদের আগলে রাখলেন সমাজবাদী পার্টির ছাত্র সংগঠন এসসিএস, কংগ্রেসের এনএসইউআই এবং বাম সংগঠন আইসার সদস্যরা। পাশাপাশি রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এই তিন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভও দেখানো হয়। মানববন্ধন প্রসঙ্গে ছাত্র সংগঠনগুলির নেতাদের বক্তব্য, তাঁদের এই আচরণ আসলে গঙ্গা-যমুনি তেহজিবের অঙ্গ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় ভেদাভেদের বিরুদ্ধে বার্তা দিতেই তাঁদের এই মানববন্ধন।
এসসিএসের ছাত্র প্রতিনিধি নবনীত কুমার বলেন, ‘শুরু থেকেই শতাব্দী প্রাচীন লাল বরাদরি মসজিদে মুসলিম পড়ুয়ারা নামাজ পাঠ করে। কিন্তু এবার কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই মসজিদ সিল করে দেওয়া হয়েছে। আমরা গঙ্গা-যমুনি তেহজিবে বিশ্বাস করি। তাই মুসলিম সহপাঠীরা যখন নামাজ পাঠ করছিল, তখন আমরা মানববন্ধন করেছি।’ নামাজের পর তাঁরা ইফতারও করেছেন বলে নবনীত জানিয়েছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, রমজানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র অধ্যাপক মুকুল শ্রীবাস্তবের অবশ্য দাবি, ‘ঐতিহাসিক এই ইমারতের বেশ কয়েকটি জায়গা ভেঙে পড়েছে। এর ভিতরে থাকা ব্যাংক এবং ক্যান্টিন আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করে মসজিদের বাইরে ডিসপ্লে বোর্ড দেওয়ার পরও ভিতরে আনাগোনা বন্ধ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে মসজিদ সিল করতে হয়েছে।’