রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার ৭৫ বছরে পা দিলেন। তাঁর অবসর নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপি ও সরকারের অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই আবহে এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিধায়কদের বয়স নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজ্যের আইনসভার অধিকাংশ সদস্যই বয়সের ভারে আক্রান্ত। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট বিধানসভার এক তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যই সত্তরোর্ধ্ব। সব মিলিয়ে ১০৯ জন বিধায়ক ৭০ বছরের গণ্ডি টপকে গিয়েছেন। এঁদের মধ্যে ৬ জন বিধায়কের বয়স ৮০ বছরের বেশি। ৭৫ বছরের সীমা অতিক্রম করেছেন ৩০ জন সদস্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ৮০ ও ৭৫ বছর পেরনো ৩৬ জন বিধায়কই তৃণমূলের। সেখানে ৭০ পেরনো বিজেপি সদস্যের সংখ্যা ৫। এই বয়সসীমার বাকি ৬৮ জনও জোড়াফুল চিহ্নে জিতে বিধানসভায় এসেছেন। এই অবস্থায় ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা কার্যত পক্ককেশ রাজনীতিকদের আখড়া হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক দলগুলিতে বয়স-বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গেরুয়া পার্টিতে এই ইস্যুতে সংস্কার করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলীমনোহর যোশী সহ একাধিক প্রবীণ বিজেপি নেতাকে প্রকৃত অর্থেই ‘বাণপ্রস্থে’ পাঠিয়েছিলেন একদা তাঁদেরই শিষ্য। তারপরই কেন্দ্রের শাসক দলের অন্দরে কার্যত অলিখিত নির্দেশিকা জারি হয়ে গিয়েছিল—৭৫ পেরলেই দল কিংবা সরকারের গুরুদায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর! কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না! তাই ১১ বছর দেশ চালানোর পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীই ‘লক্ষ্মণরেখা’র আওতায় চলে এসেছেন। এখন দেখার, নিজের তৈরি করা নিয়ম মোদি আদৌ মেনে চলেন কি না! অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী বৃদ্ধদের সরিয়ে কংগ্রেসের নয়া প্রজন্মের নেতাদের সামনে আনার পক্ষে জোরদার সওয়াল করেছিলেন। তাও ধোপে টেকেনি। উল্টে তাঁকে সরিয়ে ৮৩ বছরের ‘বৃদ্ধ’ মল্লিকার্জুন খাড়্গে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে অনেকেই আবার বাংলার মিল পাচ্ছেন! তাঁদের দাবি, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বহু বছর ধরে দলের যুব নেতাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসার পক্ষে সওয়াল করছেন। ব্লক, জেলা, রাজ্য এমনকি প্রশাসনিক স্তরেও ‘বৃদ্ধ’দের সরানোর দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই তিনি কার্যত সফল হননি! স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিজ্ঞদের দলে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ২০২১-এর বিধানসভা কিংবা ২০২৪ সালের লোকসভার প্রার্থী বাছাইয়ে বয়স বিতর্ক বারবার তাড়া করেছে জোড়াফুল শিবিরকে। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগেও একইভাবে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব সামনে আসতে শুরু করেছে। তার মধ্যে বর্তমান বিধায়কদের বয়সের রেখচিত্র মোটেও ভালো বিজ্ঞাপন নয় বলে মনে করছেন অনেকে।