নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার রাজ্যে বর্ষার প্রবেশ যথারীতি একসঙ্গে হয়নি। নির্ধারিত সময়ের আগে মে মাসের শেষলগ্নে উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আগমন হয়েছিল দিন পনেরো পর। তবে সোমবার গোটা রাজ্য থেকে বর্ষার বিদায় একসঙ্গেই হয়েছে বলে আবহাওয়া দপ্তর ঘোষণা করেছে। গোটা রাজ্য থেকে বর্ষা চলে যাওয়ার স্বাভাবিক সময় ১৫ অক্টোবর। এবার তার আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল। দেশের বেশির ভাগ অংশ থেকে বর্ষা বিদায় নিয়েছে। শুধু দক্ষিণ ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অধিকাংশ এলাকায় এখনও মৌসুমি বায়ু বিরাজ করছে। ওড়িশা ও ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রের কিছু অংশে বর্ষা এখনও আছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে দেশের আরও কিছু জায়গা থেকে বর্ষা বিদায় নেবে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন আকাশ পরিষ্কার থাকবে। মেঘলা পরিবেশের জন্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কমেছিল। এবার চড়া রোদের জন্য তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। তবে এতদিন যে ভ্যাপসা গরম চলছিল তার থেকে কিছুটা মুক্তি মিলবে। কারণ বর্ষা চলে যাওয়ার পর এবার উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের সক্রিয়তা বাড়বে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ইতিমধ্যেই অনেকটা কমে গিয়েছে। কলকাতায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখন ৩০ ও ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে আছে।
বর্ষা বিদায়ের পর এবার শীতের আগমনের প্রতীক্ষা। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শীত আসতে এখনও দেরি আছে। কলকাতায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্থায়ীভাবে যথাক্রমে ৩০ এবং ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে এলে হালকা শীত পড়েছে বলা হয়। প্রকৃত শীত বলতে যা বোঝায় তার ছোঁয়া ডিসেম্বরের আগে কলকাতায় বিশেষ পাওয়া যায় না। তবে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শীত কিছুটা আগে আসে। বিশেষ করে ভোর ও রাতের দিকে তাপমাত্রা অনেকটা কমে যাওয়ায় তখন মৃদু শীতের অনুভূতি মেলে। বেলা বাড়লেই চড়া রোদে শীতের কোনও ছোঁয়া থাকে না। অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অক্টোবরের শেষের দিকে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কখনও সখনও সাময়িকভাবে ১৪ ডিগ্রির আশপাশে আসার নজির সাম্প্রতিক অতীতে হয়েছে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড থেকে জানা যাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা পরিস্থিতি তৈরি হবে এবং সেটি থাকবে কয়েকমাস। লা নিনার জন্য এবার জাঁকিয়ে শীত পড়বে, এমনটাই মনে করছেন আবহাওয়াবিদদের একাংশ। তবে এই ব্যাপারে সকলে একমত নন।