নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি আইএসএলে ঘরের মাঠে অপরাজিত মোহন বাগান। ইস্পাতগরীর মাঠে জামশেদপুরের ট্র্যাক রেকর্ডও ঝকঝকে। ৮টি ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে খালিদ জামিলের দল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অ্যাওয়ে ম্যাচে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে রয়েছে কামিংস, পেত্রাতোসদের জন্য। উল্লেখ্য, আগামী ৩ এপ্রিল মেগা সেমি-ফাইনালের প্রথম পর্ব। যুবভারতীতে ৭ এপ্রিল হোম ম্যাচ খেলবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। দুই পর্ব মিলিয়ে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকা দলই খেতাবি লড়াইয়ের টিকিট পাবে। তবে আপুইয়াকে নিয়ে বেশ চিন্তায় মোহন বাগান টিম ম্যানেজমেন্ট। জাতীয় শিবির থেকে চোট নিয়ে ফিরেছেন। এখনও জড়তা স্পষ্ট। স্প্রিন্ট টানার মতো জায়গায় নেই। সোমবার বেশ কিছুক্ষণ তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন ফিটনেস ট্রেনার। প্রথম সেমি-ফাইনালে মিজো ফুটবলার অনিশ্চিত। এদিন কিছুক্ষণ অনুশীলনের পর মনবীরও সাইডলাইনে ফিরে যান। তাঁকে নিয়েও কিছুটা বিব্রত থিঙ্কট্যাঙ্ক।
গ্রুপ লিগে দু’বার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। যুবভারতীতে ৩-০ গোলে জাভি, তোরোদের উড়িয়ে দেয় মোহন বাগান। কিন্তু হোসে মোলিনার অশ্বমেধের ঘোড়াকে টাটানগরে রুখে দেন খালিদ জামিল। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে। নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার স্টিফেন এজের গোল চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা রাখেন তিনি। এখনও পর্যন্ত তিনবার বিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছেন খালিদের ট্রাম্প কার্ড। প্লে-অফে নর্থইস্ট ইউনাইটেডর বিরুদ্ধেও এজের গোলেই লিড নিয়েছিল জামশেদপুর। প্রথম সেমি-ফাইনালে মোহন বাগানের দুর্গ ভাঙতে এজেকে লেলিয়ে দিতে তৈরি খালিদ। ফ্রি-কিক বা কর্নারের সময়ে এজেকে অরক্ষিত রাখা মানে বিপদ ডেকে আনা। অভিজ্ঞ হোসে মোলিনা নিশ্চয়ই সেই ভুল করবেন না। পাশাপাশি দুরন্ত প্রতি-আক্রমণ খালিদের ট্রেডমার্ক। সানান, ইমরান, ঋত্বিকদের দিয়ে মাশুল তুলতে চাইবেন তিনি। মোহন বাগানের উইং ব্যাকেদের উপর চাপ তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য। পাশাপাশি জামশেদপুর ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ দেখেই রণকৌশল তৈরি করছেন হোসে মোলিনা। শুরুতে লক্ষ্যভেদ করতে পারলে চাপে পড়বে বিপক্ষ। জামশেদপুরকে নিজেদের অর্ধে ইনভাইট করে পাল্টা আক্রমণ শানাতে তৈরি স্টুয়ার্টরা। সবমিলিয়ে ধুন্ধুমার লড়াইয়ের মহড়া শুরু।