Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরোপুরি সৌরবিদ্যুৎ চালিত হতে চায় মগরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত, চলছে কাজ

পঞ্চায়েতের সিংহভাগ এলাকায় বসেছে সৌর আলোর প্যানেল। স্কুল, বিডিও অফিস, জলসত্র, পাম্পচালিত সেচ— সবই চলছে সৌর বিদ্যুতে।

পুরোপুরি সৌরবিদ্যুৎ চালিত হতে চায় মগরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত, চলছে কাজ
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পঞ্চায়েতের সিংহভাগ এলাকায় বসেছে সৌর আলোর প্যানেল। স্কুল, বিডিও অফিস, জলসত্র, পাম্পচালিত সেচ— সবই চলছে সৌর বিদ্যুতে। এর ফলে পঞ্চায়েতের বিদ্যুতের বিল বাবদ খরচ কমেছে ৯০ শতাংশ। এই চিত্র হুগলির মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের। গত এক বছরের নিরলস প্রয়াসে প্রাকৃতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভোল বদলে দিয়েছে পঞ্চায়েত। গোটা জেলায় বেনজির এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে প্রশাসনের। এখন প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ ‘সোলার ভিলেজ’ হওয়ার জন্য সাহায্য চাইছেন পঞ্চায়েতের কর্তারা। পঞ্চায়েতের বাকি অংশে সৌর বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করতে জেলা পরিষদের কাছে আবেদন করেছে পঞ্চায়েত।

Advertisement

পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, পঞ্চায়েতের কর্মী থেকে জনপ্রতিনিধি, সকলের উদ্যোগে ‘সোলার ভিলেজ’ গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের খরচ একধাক্কায় অনেকটাই কমেছে। ফলে উদ্বৃত্ত টাকা গ্রামোন্নয়নের কাজে আরও বেশি ব্যবহার করা যাবে। আমরা সোলার প্যানেল দিয়ে হাইমাস্ট লাইট, চাষের জমিতে জল দেওয়ার কাজ ইত্যাদি সাফল্যের সঙ্গে করতে পেরেছি। এ নিয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই নিরিখেই আমরা জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের কাছে একটি আবেদন করেছি। গোটা গ্রামকে সম্পূর্ণ ‘সোলার গ্রামে’ পরিণত করতে যদি কিছু অর্থ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় উচ্ছ্বসিত জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া। তিনি বলেন, আমরা ওই পঞ্চায়েতের বিষয়ে খোঁজ নেব। প্রয়োজনে মডেল পঞ্চায়েত করে কিছু পদক্ষেপ করা যায় কি না, তা দেখব। সন্দেহ নেই, মগরা ১ নম্বর পঞ্চায়েত খুব ভালো কাজ করেছে। পঞ্চায়েতের এক কর্তা বলেন, পঞ্চায়েতের টাকাতেই এই কাজ করা হয়েছে। তবে যেহেতু পঞ্চায়েতের হাতে টাকার জোগান কম, তাই গোটা এলাকাকে সৌর বিদ্যুতে মুড়তে হলে অনেকটা সময় লাগবে। এখন প্রশাসন সাহায্য করলে আমরা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ‘সোলার ভিলেজ’ হতে পারব।
সূত্রের খবর, এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেই এই পথে এগিয়েছে পঞ্চায়েত। তাতেই সাফল্য এসেছে। আগে পঞ্চায়েত অফিস, বিডিও অফিসকে সৌর বিদ্যুতে মুড়ে দিয়ে তারপর গ্রামীণ মানুষের সরাসরি কাজের জায়গায় হাত দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েতের দু’টি হাইস্কুলে সৌর বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। মেটিয়াগড়ে ৩০ বিঘা জমিতে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় দশটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, নদীর ধারে পার্কের আলোকসজ্জা, সবই চলছে অচিরাচিত শক্তি দিয়ে। সম্প্রতি হাইমাস্টের আলোও সৌর বিদ্যুৎ নির্ভর হয়ে গিয়েছে। এই আলোর জন্য বিদ্যুতের বিল অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। এখন গোটা পঞ্চায়েত এলাকাকে সৌর বিদ্যুতের আওতায় আনতে ‘নীল নকশা’ তৈরি করছেন পঞ্চায়েতের কর্তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ