Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

মুখ পুড়ল মোদির এআই সম্মেলনের, চীনা রোবোডগ নিজেদের দাবি যোগীরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের

বিশৃঙ্খলা, তার জেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনার পর এবার চীনা পণ্য ইস্যু! ওয়াই-ফাই অকেজো হয়ে মোদির ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র মুখ থুবড়ে পড়ার রেশ কাটেনি।

মুখ পুড়ল মোদির এআই সম্মেলনের, চীনা রোবোডগ নিজেদের দাবি যোগীরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: বিশৃঙ্খলা, তার জেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনার পর এবার চীনা পণ্য ইস্যু! ওয়াই-ফাই অকেজো হয়ে মোদির ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র মুখ থুবড়ে পড়ার রেশ কাটেনি। এরই মধ্যে বুধবার নয়া বিতর্কে সরগরম হল রাজধানীর বুকে চলা হাই-প্রোফাইল ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’। চোখ ধাঁধানো এআই সম্মেলনের প্রথম দিনেই একটি রোবোডগ (রোবট কুকুর) এনে হাজির করেছিল উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানকার অধ্যাপিকা নেহা সিং দাবি করেছিলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তার অন্যতম ফসল এই রোবোডগ ‘ওরিয়ন’। সেটির ভিডিও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে দেশীয় প্রযুক্তির বন্দনায় শামিল হন স্বয়ং কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও। কিন্তু অচিরেই সামনে আসে আসল তথ্য— ওই রোবোডগ একটি চীনা পণ্য, নাম ‘ইউনিট্রি গো২’। অনলাইনে ২৮০০ মার্কিন ডলার বা প্রায় আড়াই লক্ষ টাকায় কিনতে পাওয়া যায়। ‘জালিয়াতি’ প্রকাশ্যে আসতেই বুধবার তড়িঘড়ি অভিযুক্ত গালগোটিয়াস ইউনিভার্সিটিকে সম্মেলন ত্যাগের নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। বিশাল প্যাভিলিয়নে হাজির কর্মকর্তারা অবশ্য সেকথা স্বীকার করছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা চলাকালীনই তাদের প্যাভিলিয়নের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। যোগীরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের এহেন কার্যকলাপে দেশবিদেশের অভ্যাগতদের সামনে ফের মুখ পুড়েছে মোদি সরকারের।

Advertisement

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং দূরদর্শনের এক্স হ্যান্ডল থেকে ওই রোবোডগের ভিডিও মুছে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কাজকর্মের রিপোর্ট চাইতে চলেছে শিক্ষামন্ত্রক। ওই বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করে দেওয়া হবে কি না, চর্চা শুরু হয়েছে তা নিয়েও। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য দফায় দফায় ক্ষমাপ্রার্থনা করেছে। গোটা ঘটনার দায় চাপানো হয়েছে প্যাভিলিয়নে উপস্থিত ওই অধ্যাপিকার উপরেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তাঁর কাছে সঠিক তথ্য ছিল না। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও তাঁকে দেওয়া হয়নি। যদিও এদিন সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। 
অভিযোগ উঠছে, এআই সামিটে অন্যান্য প্রদর্শিত সামগ্রী নিয়েও ‘জালিয়াতি’ করেছে গালগোটিয়াস। বাতিল জিনিসপত্র ‘রিসাইক্লিং’-এর মাধ্যমে তাদের তৈরি ড্রোন আদতে বহু আগে থেকেই অনলাইনে পাওয়া যায়। বিশেষ নজরদারি বিমানের যে মডেল এনেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়, তা থার্মোকলের তৈরি। সাধারণত স্কুলের নীচু ক্লাসের পড়ুয়ারা এমন প্রজেক্ট তৈরি করে। বিষয়টি নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেসের কটাক্ষ, ‘এআই প্রযুক্তিকে কার্যত হাস্যকর জায়গায় নিয়ে গিয়েছে কেন্দ্র। দেশীয় উদ্ভাবন হিসাবে দাবি করে চীনা পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এর দায় কার?’ রাহুল গান্ধীও এই ইস্যুতে মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ