নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও এবার রাজ্যের উপর তিনটি শর্ত দিল কেন্দ্র। অর্থাৎ, এই শর্ত পূরণ করলেই মিলবে জল জীবন মিশন প্রকল্পে কেন্দ্রের অংশের টাকা। অন্যথায় খরচের পুরোটা রাজ্যের ঘাড়ে চাপবে। শর্তগুলি হল: রাজ্যকে রক্ষণাবেক্ষণ নীতি তৈরি করতে হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে মউ করতে হবে রাজ্যকে। স্কিম ধরে ধরে আইডি নম্বর বানিয়ে খরচের হিসাব দিতে হবে কেন্দ্রকে।
প্রশাসনিক মহলের প্রশ্ন: নির্বাচনের মধ্যে নতুন নীতি তৈরি হবে কী করে? রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন কী করে মিলবে? এছাড়া রাজ্যের একগুচ্ছ অফিসারকে নির্বাচনের কাজে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় শর্ত মেনে এখনই নীতি তৈরি করা এবং মউ স্বাক্ষর অসম্ভব। পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরিস্থিতিতে কেন্দ্র বিকল্প পদক্ষেপ করে কি না সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।
২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে জল জীবন মিশন প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তবে তার একবছর পর (মার্চের শুরুতে) দ্বিতীয় পর্যায়ের এই প্রকল্পের প্রশাসনিক এবং আর্থিক অনুমোদন দেয় মোদির মন্ত্রিসভা। তার পরেই এই শর্তাবলি পাঠিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার কথা বলে কেন্দ্র। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেষবারের মতো এই প্রকল্পে টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র। বর্তমানে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের পাওনা প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। ফলে কেন্দ্রের শর্ত মানা না-হলে কি প্রস্তাবিত স্কিমের টাকার পাশাপাশি বকেয়া অর্থের উপরেও কোপ পড়বে? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে প্রশাসনিক মহলের অন্দরে। কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও মানুষের বাড়িতে জলের সংযোগ সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রের তুলনায় আড়াই হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
রাজ্যের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই প্রকল্পের ৫০ শতাংশ টাকা দেয় কেন্দ্র আর বাকিটা রাজ্য। এছাড়া পাঁচবছর আগে চালু হওয়া এই প্রকল্পের শর্তই ছিল, রক্ষণাবেক্ষণের টাকা রাজ্যকে দিতে হবে। এই প্রকল্পের জন্য জমি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের খরচ রাজ্যেরই বহন করার কথা। তাই নতুন নীতি তৈরির নিদান নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।