নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের দাবি পহেলগাঁও, পাকিস্তান ইস্যুতে সংসদদের ‘বিশেষ’ অধিবেশন। এবং তা জুন মাসেই। কিন্তু সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বুধবার সরকার জানিয়ে দিল, আগামী জুলাই মাসে সংসদের বাদল অধিবেশন ডাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে প্রস্তাব পাঠানো হবে। ২১ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট বসবে বাদল অধিবেশন। এদিন এই খবর জানান সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
আর এই ঘোষণা হতেই সমলোচনায় সরব হল বিরোধীরা। প্রশ্ন তুলল, কেন সংসদের বিশেষ অধিবেশন এড়াচ্ছে মোদি সরকার। কেন পালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী? কংগ্রেসের মুখ্য মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, বিরোধীদের তোলা বিশেষ অধিবেশনের দাবি থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই সরকারের নতুন চাল। নজিরবিহীনভাবে বাদল অধিবেশনের দিন ঘোষণা। যা সাধারণত দিন কয়েক আগে জানায়, এক্ষেত্রে ৪৭ দিন আগে ঘোষণা করা হল। তবে বিশেষ অধিবেশন এড়িয়ে যদি সরকার মনে করে পহেলগাঁও ইস্যুতে চুপ করে যাব, তাহলে ভুল ভাবছে।
জয়রাম বলেন, আসলে পহেলগাঁও ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের আগেই যে আমেরিকার কাছে। ‘নরেন্দর কা সারেন্ডার’ হয়ে গেছে। তিনি নরেন্দর মোদি নন। সারেন্ডার মোদি। দলের আর এক মুখপাত্র পবন খেরা প্রশ্ন তোলেন, পহেলগাঁওয়ের প্রত্যাঘাতে ভারতীয় সেনা যখন পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিতে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছিল, তখন কেনই বা আমচকা সংঘর্ষবিরতি? কার কথায়? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সারেন্ডার করে দিলেন নরেন্দ্র মোদি? আমাদের নেতা রাহুল গান্ধী তাই মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশে যা বলেছেন, সেটাই সঠিক। নরেন্দর কা সারেন্ডার। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের মন্তব্য, সরকার আসলে সংসদ-আতঙ্কে ভুগছে। পার্লামেন্টোফোবিয়া! তাই সংসদের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে। পালাচ্ছে। তাছাড়া কেনই বা ২১ জুলাই? তৃণমূলের শহিদ দিবসের কর্মসূচি থাকে জেনেও সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই সংসদের বাদল অধিবেশন ডাকছে ওইদিনই। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।