Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬

আদালতের গুঁতো, বাংলায় ১০০ দিনের কাজ শুরুর তোড়জোড় মোদি সরকারের

সুপ্রিম কোর্টে হার। হাইকোর্টেরও গুঁতো। তাই টালবাহানা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের ‘মনরেগা’র কাজ শুরুর তোড়জোর শুরু করল কেন্দ্র। কীভাবে ফের নতুন করে কাজ শুরু হবে, তার নিয়মবিধি নিয়ে মন্ত্রক কাজ শুরু করছে বলে মঙ্গলবার সংসদে জানাল মোদি সরকার।

আদালতের গুঁতো, বাংলায় ১০০ দিনের  কাজ শুরুর তোড়জোড় মোদি সরকারের
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে হার। হাইকোর্টেরও গুঁতো। তাই টালবাহানা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের ‘মনরেগা’র কাজ শুরুর তোড়জোর শুরু করল কেন্দ্র। কীভাবে ফের নতুন করে কাজ শুরু হবে, তার নিয়মবিধি নিয়ে মন্ত্রক কাজ শুরু করছে বলে মঙ্গলবার সংসদে জানাল মোদি সরকার। 

Advertisement

দুর্নীতির অভিযোগে ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি’ আই‌নের ২৭ ধারা প্রয়োগ করেছে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। আর সেই কারণে ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে বাংলায় কাজ বন্ধ। বকেয়া ৩ হাজার ৮২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। তৃণমূলের অবশ্য দাবি, বকেয়ার পরিমাণ আরও বেশি। তাই সরকারকে চেপে ধরতে মঙ্গলবার লোকসভায় সরকারের থেকে লিখিত এবং মৌখিক জবাব আদায়ে প্রশ্ন জমা করেছিলেন তৃণমূলের ছ’জন সাংসদ—সৌগত রায়, মালা রায়, কীর্তি আজাদ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, কালীপদ সোরেন এবং শর্মিলা সরকার। জবাবে লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, কলকাতা হাইকোর্ট গত ১৮ জুন মনরেগা নিয়ে যে নির্দেশ দিয়েছে, তা পালন করা হবে। আবার বাংলায় শুরু হবে ১০০ দিনের কাজ। হাইকোর্টের নির্দেশ কীভাবে পালন হবে, তারই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বাংলায় ১০০ দিনের কাজ আটকানোর মরিয়া চেষ্টা করেছিল মোদি সরকার। সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছিল। কিন্তু গত ২৭ অক্টোবর শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের নির্দেশের উপর তারা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে বজায় থাকল হাইকোর্টেরই নির্দেশ। মাথা নত করতে বাধ্য হল মোদি সরকার। সংসদে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের শ্রম বাজেট অনুমোদন করেনি মনরেগার এমপাওয়ার্ড কমিটি। তাই কাজ বন্ধ করা হয়। আরোপ করা হয় আইনের ২৭ ধারা।
সেই মতো ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের ওয়েজ কম্পোনেন্ট বাবদ বকেয়া ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। মেটিরিয়াল বাবদ ১ হাজার ৬০৭ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কম্পোনেন্ট বাবদ ১৭ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা বকেয়া। যদিও জবাব হাতে পেয়ে মালা রায়ের মন্তব্য, মিথ্যে বলছে মোদি সরকার। আমাদের পাওনা আরও বেশি। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, সরকার আমাদের সাংসদের প্রশ্নবাণে চাপে পড়ে জবাব দিয়েছে। কিন্তু কবে থেকে কাজ শুরু হবে, স্পষ্ট করেনি। তাই যতক্ষণ না বকেয়া মিটছে, বাংলার বঞ্চনা ইশ্যুতে তৃণমূল সরব হবে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার লোকসভায় বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় মৎস্যমন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং বলেন, বাংলাকে টাকা দিলেও কাজ করে না। প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় বাংলায় গত পাঁচ বছরে ৯১০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। যার মধ্যে কেন্দ্রের দেওয়ার কথা ৩৫০ কোটি টাকা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রকল্পে যোগই দেয়নি। পরে ২০২২-২৩ সালে যোগ দেয়। কেন্দ্র ২২১ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা দেবে বলে জানায়। যার মধ্যে ১১৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজ্য খরচ করেছে মাত্র ৫৮ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা। ফলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ