নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অস্বস্তিকর কোনো প্রশ্ন করলেই সংসদে তা এড়িয়ে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এমনই অভিযোগ করল তৃণমূল। কেরলের নাম পরিবর্তনে করে ‘কেরলম’ করার অনুমোদন দিয়েছে মোদি সরকার। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের যে প্রস্তাব বিধানসভায় পাশের পর কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে কী করছে মোদি সরকার? নাম পরিবর্তনের কোনো ভাবনাচিন্তা আছে? সরকারের কাছে জানতে চেয়ে তৃণমূল সাংসদ মালা রায় প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন লোকসভা সচিবালয়ে। কিন্তু সেই প্রশ্ন গ্রহণই করা হয়নি।
একইভাবে সীমান্তে বেড়ার প্রসঙ্গেও তিনি সরকারের জবাব চেয়েছিলেন। সংসদ থেকে সভা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রায়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি দিচ্ছে না বলে। তাই সুযোগ পেয়ে সংসদেই এ ব্যাপারে মালা রায় প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলেন, আর কোন রাজ্যে জমি দেওয়ার অভাবে সীমান্তে বেড়ার কাজ অসম্পূর্ণ? সেই প্রশ্নও গ্রহণ করা হয়নি জানিয়ে মালাদেবী বলেন, মোদি সরকার অহেতুক মিথ্যে কথা বলে। তাই সংসদে উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার জন্য প্রশ্নই গ্রহণ করে না।
রাজ্যসভাতেও একই অভিযোগ তৃণমূলের। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীর তথ্য মোদি সরকারের কাছে আছে কি? কত বাংলাদেশিকে গত ১০ বছরে চিহ্নিত করা গিয়েছে? কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে? সচিবালয়ে প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। সে প্রশ্ন গৃহীত হয়নি। তাই অভিযোগের সুরে সুখেন্দুবাবু বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীও যে এত বিভ্রান্তিকর কথা বলতে পারেন, ভাবা যায় না। ব্রিগেডের সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বাংলার জনবিন্যাস পাল্টে গেছে। তাই যদি হয়, তাহলে রাজ্যসভায় যে প্রশ্ন জমা দিয়েছিলাম, তা কেন খারিজ করা হল? আসলে সরকারের কাছে কোনো তথ্যই নেই। তাই বাংলাকে প্রধানমন্ত্রী যে অপমান করেছেন, ভোটে মানুষ তার জবাব দেবে।
অন্যদিকে, সংসদের অন্দরে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান সহ বিক্ষোভ বন্ধ করতে সব রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। জানিয়েছেন, সংসদের অন্দরে যেন প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ না দেখানো হয়। যদিও রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ইস্যুতে, পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীর ওপর বিজেপির হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে আজ বিরোধীরা ধরনা, বিক্ষোভ দেখাবে বলেই জানা গিয়েছে।