Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

নিরাপত্তায় গাফিলতি ছিল, সর্বদল বৈঠকে স্বীকার মোদি সরকারের

পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় নিরাপত্তায় গাফিলতি ছিল। সর্বদলীয় বৈঠকে মেনে নিল মোদি সরকার। পুলিস এবং নিরাপত্তারক্ষীর অজান্তেই গত ২০ এপ্রিল বৈসরণে পর্যটকরা যেতে শুরু করে বলেও জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তায় গাফিলতি ছিল, সর্বদল বৈঠকে স্বীকার মোদি সরকারের
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় নিরাপত্তায় গাফিলতি ছিল। সর্বদলীয় বৈঠকে মেনে নিল মোদি সরকার। পুলিস এবং নিরাপত্তারক্ষীর অজান্তেই গত ২০ এপ্রিল বৈসরণে পর্যটকরা যেতে শুরু করে বলেও জানানো হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে এরকম কোনও ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সর্বদা সতর্ক থাকা হবে এবং পাকিস্তানকে কড়া জবাব দেওয়া হবে বলেই বৈঠকের পর জানিয়েছেন মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু।

Advertisement

নরেন্দ্র মোদি বিহারের আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে মধুবনীতে বৃহস্পতিবার সভা করেছেন। অথচ পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ইস্যুতে বৈঠকে ছিলেন না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা উপস্থিত। সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে বৈঠকে উপস্থিত হন লোকসভা-রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করেন দলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বদল বৈঠকে মোদির উপস্থিত না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা।
জম্মু-কাশ্মীরের শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স, আরএসপি, সিপিআইএমএলের মতো দল সরকারি বৈঠকে ডাকই পায়নি। বলা হয়েছে, কমপক্ষে পাঁচজন সাংসদ রয়েছেন, এমন দলকেই ডাকা হয়েছে। দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নয়। আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বৈঠকে ডাক পাওয়া নিয়ে সকালে সরব হন। তাঁকে শেষ মুহূর্তে ডাকা হয়। বৈঠকে তাই তৃণমূলের প্রশ্ন, দেশের এই বিপদের দিনে কেন ‘প্রকৃত’ সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হল না? বিপাকে পড়ে লোকদেখানো বৈঠক বলেই সমালোচনা করে তৃণমূল। 
বৈঠকে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই সময়ে আমরা সবাই একজোট থাকব। তবে প্রধানমন্ত্রীর উচিত, দ্রুত সব রাজনৈতিক দলের প্রধানকে নিয়ে বৈঠক ডাকার। সন্ত্রাসবাদ শেষ করতে সব দলেরই একমত। কিন্তু বিজেপি তারই মধ্যে কেন হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করছে? কেনই বা পহেলগাঁওয়ের ওই পর্যটনস্থলে নিরাপত্তা ছিল না? প্রশ্ন তোলেন তিনি। 
অন্যদিকে, জঙ্গি হামলায় দেশের ওই বিপদের দিনেও বিজেপি নিলর্জ্জভাবে মেরুকরণের রাজনীতি করছে ব঩লেই এ঩দিন সরব হল কংগ্রেস। হামলা নিয়ে বিজেপি যেভাবে হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের রাজনীতি করছে, তা নিন্দনীয় বলেই বৃহস্পতিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সমালোচনা করেছে রাহুল গান্ধীর দল। জঙ্গি হামলার শিকার দম্পতির ছবি নিয়ে বিজেপি ‘ঘিবলি’ কার্টুন বানিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করছে বলে সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ শুক্রবার গোটা দেশে মোমবাতি মিছিল করবে কংগ্রেস। অনন্তনাগের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসারতদের দেখতে আজ শুক্রবার কাশ্মীর যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ