Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এক দশকে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ মকুব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির, সংসদে স্বীকার মোদি সরকারের

মোদি সরকারের সবথেকে বড় বন্ধু কে? কর্পোরেট ও ধনী ব্যবসায়ীরা! বিরোধীদের এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মোদি জমানার প্রথম পাঁচ বছরেই লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ মকুব হয়েছিল।

এক দশকে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ মকুব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির, সংসদে স্বীকার মোদি সরকারের
  • ২৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোদি সরকারের সবথেকে বড় বন্ধু কে? কর্পোরেট ও ধনী ব্যবসায়ীরা! বিরোধীদের এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মোদি জমানার প্রথম পাঁচ বছরেই লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ মকুব হয়েছিল। তার সিংহভাগই ছিল কর্পোরেট। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চললেও সরকারের অবশ্য কোনও হেলদোল নেই। বরং লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে ঋণ মকুবের পরিমাণ। গত বাজেট অধিবেশনেই স্বয়ং নির্মলা সংসদে জানিয়েছিলেন, মোদি জমানার এক দশকে প্রায় সাড়ে ১৬ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ মকুব করেছে দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি। এবার জানা গেল, শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিই গত এক দশকে ১২ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা মুছে ফেলেছে অনাদায়ী লোনের খাতা থেকে। আর এভাবেই অনুৎপাদক সম্পদের ভার কমিয়ে আর্থিকভাবে নিজেদের চাঙ্গা দেখাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি। সম্প্রতি খোদ সংসদে পেশ করা সরকারি পরিসংখ্যানে একথা স্বীকার করেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক।

Advertisement

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির ঋণ মকুবের পরিমাণ নিয়ে চলতি বাদল অধিবেশনে প্রশ্ন করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি সরকারের তরফে তার জবাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ডেপুটি লিখিতভাবে জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি মোট ১২ লক্ষ ৮ হাজার ৮২৮ কোটি টাকার ঋণ মকুব করেছে। ১০ বছরের সামগ্রিক পরিসংখ্যানের পাশাপাশি গত পাঁচ বছরের বিস্তারিত তথ্যও দিয়েছেন তিনি। সেখানে ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ১২টি সরকারি ব্যাঙ্কের তথ্য রয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, শুধু  গত আর্থিক বছরেই ২০ হাজার ৩০৯ কোটি টাকার লোন নিজেদের খাতা থেকে মুছে ফেলেছে খোদ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। পাঁচ বছরের হিসেব ধরলে মকুবের অঙ্কটা প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক লোন বুক থেকে ১২ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা ছেঁটে ফেলেছে। কানাড়া ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে অঙ্কটা ১৪ হাজার ৩৭০ কোটি। সাধারণত ব্যাঙ্কগুলি ঋণের সুদ থেকে আয় করে। কিন্তু প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ঋণ মকুবের ফলে ব্যাঙ্কগুলি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ধনী ব্যবসায়ীদের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই মোদি সরকারের এই পদক্ষেপ। ঋণ মকুবের সুবিধা পাওয়া সংস্থাগুলির নাম প্রকাশের দাবি তুলেছেন তিনি। যদিও কেন্দ্র তা করতে চায়না বলেই সূত্রের খবর।

সম্পর্কিত সংবাদ