Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

স্বদেশি আন্দোলনের ধাঁচে এবার বিদেশি পণ্য বয়কটের ডাক মোদির, ‘গণপতির মূর্তিও আসছে বিদেশ থেকে’

প্রথম আহ্বান ছিল ১৯০৫ সালে। বঙ্গভঙ্গের পর। ১৯২০ সালের অসহযোগ আন্দোলনে দ্বিতীয়বার। ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনে আবার।

স্বদেশি আন্দোলনের  ধাঁচে এবার বিদেশি পণ্য বয়কটের ডাক মোদির, ‘গণপতির মূর্তিও আসছে বিদেশ থেকে’
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রথম আহ্বান ছিল ১৯০৫ সালে। বঙ্গভঙ্গের পর। ১৯২০ সালের অসহযোগ আন্দোলনে দ্বিতীয়বার। ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনে আবার। স্বাধীনতা সংগ্রামে বারংবার ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের অন্যতম হাতিয়ার হয়েছে বিদেশি পণ্য বয়কট। যা ছিল প্রধানত ব্রিটিশ পণ্য বয়কট। অর্থাৎ ভারতবাসীকে স্রেফ ক্রেতা হিসেবে ব্যবহার করে এখান থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা নিয়ে ব্রিটিশ বাণিজ্য সংস্থাগুলি সেই দেশের রাজকোষ পূর্ণ করবে। অথচ ভারতের নিজস্ব কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে, এটা মেনে নেওয়া হবে না। মঙ্গলবার স্বাধীন ভারতের ৭৮ তম বর্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবার সেই স্বদেশি আন্দোলনের ডাক দিলেন। আমেদাবাদের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আত্মনির্ভরতাই একমাত্র পথ উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার। তাই এবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বিদেশি পণ্য বয়কটের ডাক দিলেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদিনের জীবনে বিদেশি পণ্য কেন দরকার হবে? নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সবই দেশীয় সংস্থা উৎপাদন করে। অবিকল স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ের স্লোগানের ধাঁচেই এদিন মোদি বলেন, আমাদের গ্রামে গ্রামে প্রচার করতে হবে যে, যদি বিদেশি পণ্য বিক্রি না করলে আর্থিক ক্ষতিও হয়, জাতীয় স্বার্থে বিদেশি পণ্য বয়কট করতে হবে। কেউ যেমন বিদেশি পণ্য ক্রয় করব না, তেমন বিক্রিও করবে না। সরাসরি নাম না করে চীনের দিকেই মোদির অঙ্গুলিহেলন। কারণ তিনি বলেন, গণপতির মূর্তি পর্যন্ত বিদেশ থেকে আসছে। তাও আবার সেই গণপতির চোখ অর্ধনিমীলিত। ক্ষুদ্র চোখ। এটা কেন হবে? 

Advertisement

মোদি যখন এই বিদেশি পণ্য বয়কট এবং স্বদেশি পণ্যের পক্ষে সওয়াল করছেন, তখন দেশের আমদানি-রপ্তানির ঘাটতি আকাশ স্পর্শ করছে। মার্চ মাসে আমদানি ও রপ্তানির ঘাটতি ছিল ২১০ কোটি ডলার। এপ্রিল মাসে সেটা বেড়ে হয়েছে ২৬০ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে এই বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি ২হাজার ৮৮০ কোটি ডলার। বছর বছর রপ্তানি কমছে। আমদানি বাড়ছে। মোদি বহুবার আত্মনির্ভরতার কথা বলেছেন। কিন্তু সেই ঘোষণা অথবা স্লোগান বাস্তব থেকে অনেক দূরেই থেমে গিয়েছে। আত্মনির্ভর তথা মেক ইন ইন্ডিয়ার কথা বলা হলেও একঝাঁক সেক্টরে আমদানি বেড়েই চলেছে। সবথেকে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন কঠোর আমদানি শুল্ক আরোপ করার হুমকি দিয়ে চলেছে, ঠিক তখনই মোদির মুখে এই আচমকা বিদেশি পণ্য বয়কটের ডাক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ছবি: পিটিআই

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ