Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিখোঁজ সিভিক ভলান্টিয়ারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার পাটের গুদামে

শনিবার ডিউটিতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি সিভিক ভলান্টিয়ার শুভেন্দু মণ্ডল।

নিখোঁজ সিভিক ভলান্টিয়ারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার পাটের গুদামে
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শনিবার ডিউটিতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি সিভিক ভলান্টিয়ার শুভেন্দু মণ্ডল। ওই রাতেই বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে উদ্ধার হয়েছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে স্বরূপনগরের চারঘাট এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃত সিভিক ভলান্টিয়র শুভেন্দুর বয়স ৩৫ বছর। পুলিসের প্রাথমিক ধারণা, ঋণের দায়েই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। তবে, এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সগুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম পলতা গ্রামে বাড়ি শুভেন্দুর। বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে ছ’বছরের এক ছেলে। স্বরূপনগর থানার চারঘাট তদন্ত কেন্দ্রের অধীনে দীর্ঘদিন ধরেই সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ করছিলেন তিনি। শনিবার সকালে ডিউটিতে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বের হন শুভেন্দু। কিন্তু, তারপর থেকে তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বন্ধু বা পরিচিতরাও হদিশ দিতে পারেননি। এর মধ্যে খবর আসে, বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চারঘাট বাজারে একটি পাটের গুদামে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে সিভিক ভলান্টিয়ারের দেহ। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে যায় পুলিস। সেখান থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্বরূপনগরের শাঁড়াপুল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে, বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রবিবার সিভিক ভলান্টিয়ারের দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। এনিয়ে মৃতের শ্বশুর গোপাল মণ্ডল বলেন, জামাই কয়েকমাস হল ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। চূড়ান্ত অর্থকষ্টে ভুগছিল। পাওনাদাররা রীতিমতো চাপ দিচ্ছিল। একারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। শনিবার দুপুরে মেয়ে আমাকে বলে জামাইয়ের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রাতে জানতে পারি, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পাটের গুদাম থেকে উদ্ধার হয়েছে ঝুলন্ত দেহ। এ নিয়ে বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ঋণের টাকা শোধ করতে না পারার কারণেই ভেঙে পড়েছিলেন শুভেন্দু। সেকারণেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে আমাদের ধারণা। তবে, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তা পুলিস তদন্ত করে দেখছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ