নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাড়ি থেকে কিশোরীর বিয়ের জন্য দেখাশোনা চলছিল। ঠিক হয়েছিল, এখন বিয়ের পাকা কথা বলে রাখা হবে। পরে কিশোরী সাবালিকা হলে বিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু, কিশোরীর পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। সে প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি ছাড়ে। পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে পরে নববধূ হিসেবে বাড়ি ফেরে। ঘটনা জানার পর কিশোরী বধূর শ্বশুরবাড়িতে হানা দেয় পুলিস ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। ওই কিশোরী বধূকে হোমে পাঠায় প্রশাসন। পাশাপাশি তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয় মধ্যমগ্রাম থানায়। ঘটনাটি বারাসত ২ ব্লকের রোহান্ডা-চণ্ডীগড় পঞ্চায়েত এলাকার।
বারাসত ২ নম্বর ব্লকের কেমিয়া-খামারপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রজিনা খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল পাশের রোহন্ডা-চণ্ডীগড় পঞ্চায়েতের নইমুদ্দিন খাঁর (দু’জনেরই নাম পরিবর্তিত)। রজিনার এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা। কিন্তু তার আগে রজিনার বিয়ের জন্য সম্বন্ধ করছিলেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু তাতে আপত্তি জানায় রজিনা। যদিও সেই আপত্তি মানেননি পরিবারের লোকজন। এই অবস্থায় রজিনা ২০ জুন পালিয়ে যায় প্রেমিকের সঙ্গে। ২৩ জুন শ্বশুরবাড়িতে ফেরে সে। খবর পাওয়া মাত্রই তার শ্বশুরবাড়িতে হানা দেয় মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রথমে তারা বিয়ে করার প্রসঙ্গটি মিথ্যা বলে দাবি করলেও পরে স্বীকার করে।
এরপরই ওই কিশোরী বধূকে উদ্ধার করে হোমে পাঠানো হয়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবকের নামে মধ্যমগ্রাম থানায় এফআইআর করেছেন বারাসত ২-এর সিডিপিও রাজশঙ্কর পান্ডে। তিনি বলেন, নাবালিকা বিয়ে রদ করতে আমরা তৎপর। ক’দিন আগে শাসন থানা এলাকায় এই ধরনের একটি ঘটনা জানার পরেই কড়া পদক্ষেপ করা হয়। এবার মধ্যমগ্রামের ক্ষেত্রেও তা করা হল। সরকারি নিয়ম অবজ্ঞা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।