নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: নাবালিকা বধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন বধূকে লাগাতার শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করত। শেষে খুন করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রায়গঞ্জের বাজে বিন্দোল এলাকায়। পুলিসের বক্তব্য, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে। রায়গঞ্জ থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেন, মৃতার স্বামী সঞ্জয় কিস্কুকে পুলিস গ্রেপ্তার করে তদন্তে নেমেছে। পাশাপাশি নাবালিকা মেয়েটির কী করে বিয়ে হল সে ব্যাপারেও বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার ভোরে বধূর দেহ উদ্ধার হয় বাজে বিন্দোল এলাকায় তার স্বামীর বাড়ি থেকে। তারপরই বাঁধে হুলুস্থুল। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বামীর গ্রেপ্তারির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে মৃতার বাপের বাড়ির লোকজন। তারপর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিস। আটক হয় বধূর স্বামী সঞ্জয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। বধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় রায়গঞ্জ মেডিক্যালের মর্গে। মৃতার দিদি কল্পনা সোরেন বলেন, আমার বোনকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বোনের স্বামী সঞ্জয় কোনও কাজকর্ম করত না। শুধু নেশা করে বোনের উপর অত্যাচার চালাত। এ ব্যাপারে বোনের শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরও মদত ছিল। মৃতার দিদির কথায়, এক বছর আগে আমার বোন প্রেম করে বিয়ে করে। সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে আমরা দিইনি। কিন্তু বিয়ের পর থেকে অত্যাচার শুরু করে তার স্বামী। পুলিস সূত্রে খবর,ওই বধূর মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানতে দেহ ময়নাতদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর ব্যাপারে স্পষ্ট একটা ধারণা মিলবে। এছাড়াও বধূর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার মানুষজনের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।



