Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬

নেপাল-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে উঠছে জঙ্গি শিবির, নেটওয়ার্ক পাকিস্তানে, গোয়েন্দা সূত্রে উদ্বেগজনক তথ্য

ভারতের প্রতিবেশী দুই দেশে বিগত এক বছরে পালাবদল হয়েছে। নেপাল ও বাংলাদেশ। নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের আন্দোলন, বিক্ষোভ, গুলি, সংঘর্ষ ও মৃত্যু।

নেপাল-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে উঠছে জঙ্গি শিবির, নেটওয়ার্ক পাকিস্তানে, গোয়েন্দা সূত্রে উদ্বেগজনক তথ্য
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিবেশী দুই দেশে বিগত এক বছরে পালাবদল হয়েছে। নেপাল ও বাংলাদেশ। নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের আন্দোলন, বিক্ষোভ, গুলি, সংঘর্ষ ও মৃত্যু। তারপর থেকে ক্ষমতায় অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের কোনও নামগন্ধ নেই। বারংবার আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই বিশেষ প্রবণতার পিছনে কি কোনও বিশেষ কলকাঠি কাজ করছে? অর্থাৎ নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় কোনও অনির্বাচিত সরকারকে বসিয়ে দেওয়া? আর আড়াল থেকে পুতুল সরকার চালানো? প্রশ্ন হল, পুতুল খেলার মালিক কে? এই সন্দেহ ও প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কিন্তু এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর এসেছে, নেপাল ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি শিবির গড়ে তোলার কাজ চলছে। আল কায়েদা ইন্ডিয়া সাবকন্টিনেন্ট এবং আইসিস, এই দুই সংগঠন বেশ কিছু বছর ধরেই সক্রিয় ভারতের অন্দরে। মাঝেমধ্যেই গ্রেপ্তার হচ্ছে এই দুই সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত সন্দেহভাজনদের।  এরইমধ্যে জানা গিয়েছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের যে জঙ্গি শিবিরগুলি অপারেশন সিন্দুরে ধ্বংস করা হয়েছিল, সেই ধাঁচেই এবার বাংলাদেশ ও নেপালে ঘাঁটি গড়ে তোলা হচ্ছে।

Advertisement

চলতি শতকের শুরুতে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন গড়ে ওঠার পর বাংলাদেশে সক্রিয় হয় হুজি গোষ্ঠী। এই দুই সংগঠন মিলে একের পর এক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালিয়েছে ভারতে। ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের কমান্ডার প্রধানত ভাটকল ব্রাদার্স গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ক্রমেই নিষ্ক্রিয় হয় ওই সংগঠন। হুজির কার্যকলাপ স্তিমিত হয় বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে। এখন হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। আবার বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মনোভাব চড়া হতে শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্প্রতি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের আধিকারিকদের প্রতিনিধি দল বৈঠকও করে গিয়েছে ঢাকায় এসে। আর তারপরই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা খবর পেয়েছে, নেপাল ও ভারতের সীমান্তে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গিদের এনে জড়ো করা হচ্ছে। এমনও খবর আসছে যে, এই কাজে তুরস্ক থেকে আসছে আর্থিক সহায়তা। আর নেটওয়ার্ক দিচ্ছে পাকিস্তান। প্রাথমিকভাবে নেপালে লস্কর ও জয়েশ জঙ্গিরা এসে পড়েছে। বিগত পাঁচ মাসে এই সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বেশি করে। নতুন যে জঙ্গি শিবির তৈরি হচ্ছে সেগুলিকে অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরের ধাঁচে কলোনির রূপ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কোনও একটি এলাকায় হঠাৎ যেন একটি কলোনি গড়ে উঠছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কি প্রশিক্ষণ? নাকি স্লিপার সেল হিসেবে ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়া? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক প্রত্যেক সিকিউরিটি এজেন্সিকে সতর্ক করেছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ