শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: রাত থেকেই শুরু হয়েছিল ‘শেলিং।’ পাঞ্জাব সীমান্তে খেমকরন গাঁওয়ের মাটির দেওয়ালে গেঁথে যায় পাক মর্টার। দেরি না করে গ্রাম খালি করতে শুরু করে ভারতীয় সেনা। তারপর? সেদিনের স্মৃতিচারণায় খেমকরনের প্রবীণদের গলা আজও কেঁপে যায়। ১৯৬৫ সালের অভিশপ্ত সেপ্টেম্বর। আগ্রাসী পাকিস্তান ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান আর্মির বুক চিতিয়ে লড়াই। পাক বাহিনী একটা পাথরের টুকরোও দখল করতে ব্যর্থ। মেজর গুরবক্স সিংকে ঘিরে খেমকরনের মাটিতে স্লোগান ওঠে-‘ভারত মাতা কি জয়।’ প্রয়াত বাবার মুখে ভারতীয় সেনার বীরত্বের গল্প শুনেই বড় হয়েছেন ফুটবলার মেহতাব সিং। পাঞ্জাবের প্রত্যন্ত খেমকরনই মেহতাবের আঁতুরঘর।
সময় বদলেছে। পঞ্চনদের দেশের খেমকরনের চরিত্র পাল্টায়নি। মুঠোফোনে মেহতাব সিং বললেন, ‘দাদা এটাই বর্ডার। কিছু বোঝার আগেই গুলি ছোটে। মাঝেমধ্যেই গ্রাম খালি করে দেয় আর্মি।’ চলতি মরশুমে মুম্বই সিটিতে ছিলেন মেহতাব। আপাতত টানা বিশ্রাম। গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষায় মা ও পরিবার। ছুটিতে খেমকরনের বাড়িতে গাছের ছায়ায় খাটিয়া পেতে মায়ের সঙ্গে গল্প করার তর সইছিল না। কিন্তু হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ায় সব পরিকল্পনা তছনছ। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর ভারতের প্রত্যাঘাত। অপারেশন সিন্দুরের পর সীমান্তে উত্তেজনা চরমে। এই গ্রাম আসলে অমৃতসরের দরজা। বর্ডার পেরলে শহরে পৌঁছতে ঘণ্টা দেড়েক সময়ও লাগবে না। বন্ধ বেশিরভাগ বিমানবন্দর। উদ্বেগে মেহতাবের রাতের ঘুম উবে যাওয়ার জোগাড়। গ্রাম খালি করে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে বাসিন্দাদের। সেনার দাপাদাপি। সন্ধ্যার পর আলো জ্বালানো বন্ধ। চলছে পুরোদস্তুর ব্ল্যাক আউট। উদ্বেগে ক্রমাগত ফোন ঘোরাচ্ছেন। ইন্টারনেট বন্ধ। মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তি। কিন্তু খেমকরনে ফেরার প্ল্যানিং আপাতত চৌপাট। কিন্তু এত ঝুঁকি নিয়ে পরিবারকে খেমকরনে রাখার কী প্রয়োজন? মেহতাব যা আয় করেন তাতে দামী ফ্ল্যাট কেনা কোনও সমস্যাই নয়। তবে? প্রশ্ন করতেই ফুঁসে ওঠেন পাঞ্জাবি ফুটবলার। বললেন, ‘দাদা ইয়ে হামারা মিট্টি, হামারা দেশ। গাঁও নেহি ছোড়েঙ্গে।’ খেমকরনের গরম হাওয়া দেশভক্তিতে মাখামাখি।