Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২ মদ্যপের মাতলামিতে প্রাণ গেল ভ্যানচালক দাদুর, ধৃত শ্রমিক নাতি

২ মদ্যপের মাতলামিতে প্রাণ গেল ভ্যানচালক দাদুর, ধৃত শ্রমিক নাতি
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, দিনহাটা: রবিবার রাত। মদ্যপ অবস্থায় দিনহাটার অচিনতলা বাজারে এসে চিত্কার চেঁচামেচি করছিলেন ভ্যানচালক জিতেন শর্মা(৬০)। তাঁকে দাদু বলে ডাকা শ্রমিক চিরঞ্জিত্ বর্মন(২৭) তখন মদ্যপ হয়ে বাজারে ঘুরছে। জীতেনকে ওই অবস্থায় দেখে চিরঞ্জিত্ বলে-চল দাদু বাড়ি যাই। আর এতেই চটে জীতেন চিরঞ্জিতকে থাপ্পড় মারেন। মার খেলেও মদের নেশায় ইয়ার্কি করেই চিরঞ্জিত্ জড়িয়ে ধরে জীতেনকে। কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে চলে ধস্তাধস্তি। সেই সময় অসতর্ক হয়ে পড়ে যান জীতেন। পিচের রাস্তায় মাথা ফেটে যায় তাঁর। স্থানীয়রা দ্রত তাঁকে দিনহাটা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা অবনতি হওয়ায় জীতেনকে দ্রুত কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যালে রেফার করা হয়। কিন্তু রাস্তায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার রেশ কাটতেই এলাকা ছাড়ে চিরঞ্জিত্। পুটিমাড়িতে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় গা ঢাকা দেয় সে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাতে তাকে আটক করে দিনহাটা থানায় নিয়ে আসে পুলিস।  জীতেন শর্মার পরিবার চিরঞ্জিতের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হয়েছে সেই নাতি। 
Advertisement
জীতেন পেশায় ভ্যানচালক। ছোটনাচিনা গ্রামে বাড়ি তাঁর। বাড়িতে স্ত্রী রয়েছেন। মেয়ের বিয়ে হয়েছে অনেকদিন হল। প্রতিরাতেই অচিনতলা বাজারে আসেন তিনি। স্থানীয়রা তাঁকে প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় চেঁচামেচি করতে দেখতেন। জীতেন-চিরঞ্জিতের সম্পর্ক বরাবরই ভালো। চিরঞ্জিত্ শ্রমিকের কাজ করে। বড়নাচিনায় তারও বাড়ি। কাজ শেষে বাজারে এসে দাদু-নাতি মিলে প্রায়ই মদ খায়। চিরঞ্জিতের স্ত্রী ছাড়াও বাবা মা রয়েছেন। ছোট্ট শিশু রয়েছে। রবিবার রাতে ইয়ার্কির ছলেই দাদুকে জড়িয়ে ধরেছিল বলে পুলিসকে বারবার জানিয়েছে সে। বড় নাচিনা গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য রাধারানি বর্মনের স্বামী বাবলু বর্মন বলেন, রাতে অচিনতলা বাজারে ঘটনাটি ঘটে। পরে গিয়ে মাথা ফেটে যায় জীতেন শর্মার। পরবর্তীতে তিনি মারা যান। 
দিনহাটা থানার আইসি জয়দীপ মোদক বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ