Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিধি ভেঙে নির্মাণে আক্ষেপ, পড়ুয়াদের গাছ ‘দত্তক’ নেওয়ার আবেদন মেয়রের

শহরজুড়ে বিরাট বিরাট অট্টালিকা মাথা তুলছে। নিয়মের কোনও তোয়াক্কা নেই। নির্মাণস্থল না ঢেকেই চলছে কাজ। ফলে ধুলো উড়ছে দেদার। শিশুরা সিওপিডি আক্রান্ত হচ্ছে।

বিধি ভেঙে নির্মাণে আক্ষেপ, পড়ুয়াদের গাছ ‘দত্তক’ নেওয়ার আবেদন মেয়রের
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরজুড়ে বিরাট বিরাট অট্টালিকা মাথা তুলছে। নিয়মের কোনও তোয়াক্কা নেই। নির্মাণস্থল না ঢেকেই চলছে কাজ। ফলে ধুলো উড়ছে দেদার। শিশুরা সিওপিডি আক্রান্ত হচ্ছে। ইনহেলার নিতে হচ্ছে। গাছ লাগালে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইনহেলারের উপর নির্ভর করতে হতো না। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাও প্রয়োজন। ‘আন্তর্জাতিক নির্মল বাতাস ও নীল আকাশ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার টাউন হলে এক অনুষ্ঠানে এভাবেই নিয়ম ভেঙে নির্মাণ ও প্রোমোটার-রাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই সঙ্গে বৃক্ষ রোপণের উপযোগিতার কথা বলতে গিয়ে তিনি এক্ষেত্রে আগামী প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে বলেন। আবেদন করেন, ছাত্র-ছাত্রীরা যেন অন্তত একটি করে গাছ দত্তক নেয়। 

Advertisement

বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা ও কার্বন কণা হ্রাস করে বাতাসের গুণমান বৃদ্ধি এবং জনমানসে এ সংক্রান্ত সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই দিনটি উদযাপিত হয়। পুরসভার তরফে এদিন শহরের বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি কর্মশালা আয়োজিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও হেরিটেজ বিভাগের মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার, পরিবেশ বিজ্ঞানী ডঃ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী, বোস ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।
সেই অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, ‘বিশ্বের তথাকথিত উন্নত দেশগুলি বায়ুদূষণ, জলবায়ু ধ্বংসের কাণ্ডারী। তারা এখন কার্বন ক্রেডিটের নামে অল্প কিছু অর্থ দিচ্ছে, আর আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলি চারটে গাছ লাগিয়ে লাফাচ্ছি। এভাবে হয় না। কিছু দেশ যুদ্ধ করছে। গোলা-বারুদ বর্ষণ হচ্ছে। তাতে বাতাসে বিপুল কার্বন কণা মিশছে। আমাদেরও সচেতন হতে হবে। জনসচেতনতা ছাড়া এই কাজ কোনও সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়।’ বিল্ডিং নির্মাণে অনিয়ম নিয়ে মেয়র আরও বলেন, ‘কোনও বাড়ি চারপাশ ঢাকা দিয়ে ভাঙা বা তৈরি না হলে অভিযোগ জানান। কেউ গাছ কাটলে বা পুকুর ভরাট করলে অভিযোগ করুন।’ 
উল্লেখ্য, এই দিনটি ইউনাইটেড নেশনসের তরফে ২০১৯ সাল থেকে পালন করা শুরু হয়। ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রামের মাধ্যমে লাগাতার নানা পদক্ষেপের ফলে কলকাতার বাতাসের গুণমান খানিকটা উন্নত করা গিয়েছে। এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ভালো কাজের জন্য মিলেছিল মোটা অঙ্কের ইনসেনটিভও। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রের আরও একটি রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে আবার বাতাসের গুণমানের নিরিখে কলকাতা অনেক নীচে রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে মেয়রের এদিনের বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ