


দেবজিৎ ঘোষ: নির্বাচনের পর পালাবদলের সাক্ষী বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানাই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। নতুন সরকারকে ঘিরে আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা থাকেই। ময়দানও তার ব্যতিক্রম নয়। মাঠের মানুষ হিসাবে আমিও সেদিকে সাগ্রহে তাকিয়ে। ঘরোয়া লিগ বাংলার ফুটবলের ফুসফুস। বিশ্বাস রাখি, আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে বাংলার ফুটবল স্বমহিমায় ফিরবে। প্রশাসনের কাছে একটাই চাওয়া— সবুজ ঘাসের মতোই দূষণমুক্ত হোক আমাদের প্রাণের ময়দান।
সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল। অথচ সেই ফুটবলের হাল আজ বড্ড করুণ। জাতীয় দলে বাঙালির সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা। অথচ বিভিন্ন জেলায় প্রতিভার অভাব নেই। ভোরের প্রথম ট্রেন ধরে জেলার ময়দানে ট্রায়াল দিতে আসে প্রচুর ফুটবলার। বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন তাদের দু’চোখে। কিন্তু চরম দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী। যাতায়াতের ভাড়াটুকুও জোটে না। এমনকী, ট্রায়াল দেওয়ার আগেই কোটা সিস্টেমে দলগঠন হয়ে যায় অনেক ক্লাবেই। সবার আগে ফুটবলের এই ছবিগুলো বদলানো দরকার। ক্রীড়ামন্ত্রীর হটসিটে কে বসবেন, তা এখনও অজানা। তবে জেলা ফুটবলে প্রাণ ফেরানোর অনুরোধ রইল। ঢালাও পরিকাঠামো দরকার। রাজ্য সরকারের অ্যাকাডেমিকে আধুনিকতায় মুড়ে দেওয়া হোক। গালভরা প্রতিশ্রুতির বদলে দ্রুত কাজ চাই। প্রয়োজনে প্রতি মাসে রিপোর্ট তলব করা হোক। প্রতিভার সন্ধানে স্পটার হিসাবে প্রাক্তন ফুটবলারদের প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠানো উচিত। লাইসেন্সধারী প্রচুর কোচ ময়দান জুড়ে ছড়িয়ে। এতে তাঁরাও উৎসাহিত হবেন।
পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলে গড়াপেটা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিক প্রশাসন। ঘুনপোকার মতো ঐতিহ্যবাহী লিগের কাঠামো ধ্বংস করছে ফিক্সিং। অবিলম্বে এই রোগ নির্মূল করতে না পারলে বিপদ অনিবার্য। সরকার নিশ্চয়ই সেদিকে যত্নবান হবেন। ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে নিজে প্রাক্তন ফুটবলার। গোড়ার এই সমস্যা তাঁর অজানা নয়। ডাবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ায় কল্যাণের সামনে খোলা মাঠ পড়ে রয়েছে। তাই আমার বিশ্বাস, ফুটবলের হাল ফেরানোর এটাই সোনার সুযোগ।