Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপি বিধায়কের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন, মতুয়া মহাসঙ্ঘের পদাধিকারীকে শোকজ

কয়েকদিন আগে বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন মতুয়া মহাসংঘের মহকুমা সম্পাদক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস।

বিজেপি বিধায়কের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন, মতুয়া মহাসঙ্ঘের পদাধিকারীকে শোকজ
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: কয়েকদিন আগে বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন মতুয়া মহাসংঘের মহকুমা সম্পাদক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। অশোকবাবুর বিধায়ক-পদ খারিজের দাবিতে মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশন জমা দিয়েছিলেন তিনি। মতুয়া মহাসংঘকে না জানিয়ে ওই কর্মসূচি নেওয়ার জন্য এবার প্রসেনজিৎবাবুকে শোকজ করলেন সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। 

Advertisement

কী অভিযোগ করেছিলেন মতুয়া মহাসংঘের মহকুমা সম্পাদক? তাঁর দাবি ছিল, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার নাম থাকলেও তাঁর বাবার নাম নেই। বিধায়কের পরিবার অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের তরফেই ওই ডেপুটেশন জমা দিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, তাতেই ‘বিরক্ত’ হয়েছেন সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। তারপর শুক্রবার তিনি এ বিষয়ে প্রসেনজিৎবাবুকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। মমতা ঠাকুর বলেন, ‘মতুয়াদের দীর্ঘদিনের দাবিই হল উদ্বাস্তু পরিবারকে নিঃশর্ত নাগরিকত্ব প্রদান করতে হবে। মহাসংঘে  কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই তিনি এই কাজ করেছেন, যা মতুয়াদের একাংশ ভালোভাবে নেয়নি।’ এ বিষয়ে প্রসেনজিৎবাবু বলেন, ‘আমি শুধু এটা দেখাতে চেয়েছি, একজন বিধায়কের বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কোনও ভয় নেই।’ বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া বলেন, ‘প্রসেনজিৎ বিশ্বাস সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। মমতা ঠাকুর মতুয়া উদ্বাস্তুদের ভালো চাইলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের মতো মানুষকে সংগঠনের দায়িত্ব দিতেন না। ওঁকে সাসপেন্ড করলে যোগ্য জবাব হতো।’ এই অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিরোধী দলের বিধায়কের ‘পাশে দাঁড়িয়ে’ আসলে বিজেপিকেই মোক্ষম খোঁচা দিতে চেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। সেই সঙ্গে নিঃশর্ত নাগরিকত্বের প্রশ্নে তাঁরা যে কোনও আপস করবেন না, সেই বার্তাও দিতে চেয়েছেন মতুয়াদের।  
এদিকে, এসআইআর এবং সিএএ’র বিরোধিতা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে স্মারকলিপি দিতে শুক্রবার সকালে বনগাঁ থেকে পাটনার উদ্দেশে রওনা হলেন মতুয়াদের একাংশ। পাটনা শহরে আজ, শনিবার ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শুরুর আগে রাহুলের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে তাঁদের। প্রসঙ্গত, ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে ধর্মীয় শংসাপত্র ও মতুয়া কার্ড বিলিকে  কেন্দ্র করে গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের মহা-সংঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুরের সঙ্গে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের আকচাআকচি চলছে। এই আবহে সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুরের এই পদক্ষেপ মতুয়াকেন্দ্রিক রাজনীতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।  

সম্পর্কিত সংবাদ