নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে ‘আপাতত’ সরে আসতে চাইছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিপিআই-মাওবাদী। ছাড়তে চাইছে ‘হাতিয়ার’, ফিরতে চাইছে মূলস্রোতে। সংগঠনের মুখপাত্র তথা পলিটব্যুরো সদস্য মাল্লুজোলা বেণুগোপাল রাও ওরফে অভয়ের তরফে এমনই বার্তা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র সরকারকে। এই পর্বে একমাসের জন্য ‘যুদ্ধবিরতি’ এবং শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান বন্ধের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মাও গেরিলারা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাওবাদীদের তরফে এই প্রথম লেখা হয়েছে—‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাওবাদী আন্দোলনে প্রভাবিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং শান্তি আলোচনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া বিরোধী দলের নেতা-নেত্রী এবং দেশবাসীর কাছে দলের ‘অবস্থান’ পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্যই এই প্রেস বিবৃতি’। এই বিবৃতিতে আদৌ মাওবাদীদের তরফে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ছত্তিশগড় সরকার। বিবৃতির উৎস সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে তারা। এই বিবৃতি জারি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে অন্য কোনও বড়সড় পরিকল্পনা মাওবাদীরা করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রেস বিবৃতিতে কিষেনজির ভাই বেনুগোপাল রাও ওরফে অভয়ের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। আর তা নিয়েই তুমুল বিতর্ক এবং সন্দেহ দানা বেঁধেছে। গোয়েন্দারা বলছেন, সচরাচর যে ভাষায় মাওবাদীরা বিবৃতি দিয়ে থাকে, অভয়ের লিখিত বার্তা তার থেকে একদম আলাদা। তাছাড়া আগে মাওবাদীরা কোনও বিবৃতিতে মুখপাত্রের ছবি ব্যবহার করেনি। এরই পাশাপাশি অভয়ের এই প্রেস বিবৃতিটিতে ১৫ আগস্ট তারিখ লেখা থাকলেও, কেন তা একমাস পরে ছত্তিশগড়ের সাংবাদিকদের সামনে আনা হল, তা নিয়েও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। সংগঠনের সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার জন্য এই বিবৃতিতে যেভাবে ই-মেল আইডি এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্ট (nampetalk) দেওয়া হয়েছে তাও নজিরবিহীন। খোঁজখবর নিয়ে জানা গিয়েছে, ফেসবুকে এ নামে কোনও অ্যাকাউন্টই নেই। গোয়েন্দারা বলছেন, ১৫ আগস্টের পরও ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড এমনকী বিহারেও মাওবাদী হানা অব্যাহত ছিল। সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণের পাশাপাশি ল্যান্ডমাইন ফাটিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের ঘায়েল করার ঘটনাও ঘটিয়েছে মাওবাদীরা। গত ২১ মে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয়েছিলেন ২৭ জন দেহরক্ষী সহ মাওবাদী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজু। মাওবাদী মহলে চর্চা ছিল, পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হবেন বেণুগোপাল ওরফে অভয়। কিন্তু চলতি সেপ্টেম্বর মাসে নতুন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তেলেঙ্গানার থিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবজি। গত ২০১০ সালে দান্তেওয়াড়ার সুকমায় ৭৪ জন সিআরপি জওয়ান নিধন যজ্ঞের প্রধান পুরোহিত এই দেবজি। সাধারণ সম্পাদক হয়েই নতুন করে সংগঠনকে চাঙ্গা করা এবং অস্ত্র গোলাবারুদ জোগাড় করার উপর জোর দিয়েছেন মাওবাদীদের শীর্ষ নেতা। তারই মাঝে অভয়ের তরফে অস্ত্র সংবরণ করে শান্তিবার্তা দেওয়ার বিষয়টির উপর এখনই ভরসা করতে রাজি নয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।