বিশেষ সংবাদদাতা, রায়পুর: মাওবাদী দমনে ফের বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে শীর্ষ মাওবাদী নেতা গজরলা রবি সহ তিনজনের। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবি অন্ধ্র-ওড়িশা বর্ডার স্পেশাল জোনাল কমিটির সেক্রেটারি পদে ছিল। তার মাথার দাম ছিল ২৫ লক্ষ টাকা। ২০০৪-০৫ সালে অন্ধ্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস আর রেড্ডির সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশও নিয়েছিল সে। গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের আরও দুই সদস্য রবি ভেঙ্কাটা লক্ষ্মী চৈতন্য ওরফে অরুণা এবং অঞ্জুর। অরুণা স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য ও পূর্ব ডিভিশনের সেক্রেটারি পদে ছিল। জানা গিয়েছে, সদ্য নিহত শীর্ষ মাওবাদীনেতা চলপতির স্ত্রী এই অরুণা। তার মাথার দাম ছিল ২০ লক্ষ টাকা। মাওবাদীদের মহিলা সংগঠনের অন্যতম মুখ অরুণা।
এদিন এনকাউন্টারের ঘটনাটি ঘটেছে মারেদুমিল্লি জেলার কিন্তুকুরু গ্রাম ও আল্লুরি সীতারামারাজু জেলার রামপাচোদাভারাম গ্রামের মধ্যে। পুলিস সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাওবাদীর একটি দল রয়েছে বলে খবর মেলে। তার ভিত্তিতে বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের গ্রে হাউন্ড, সিআরপিএফ ও ছত্তিশগড় পুলিস যৌথ অভিযান শুরু করে। দু’পক্ষের মধ্যে প্রায় ২৬ মিনিট গুলির লড়াই চলে। তাতে শীর্ষ মাওবাদী নেতা রবি সহ দুজনকে খতম করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তিনজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিরা গা-ঢাকা দিয়েছে বলে খবর। তাদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন মালকানগিরি, কোরাপুট, শ্রীকাকুলামে সংগঠনের দায়িত্বে ছিল রবি। গেরিলা যুদ্ধ ও আইইডি বিস্ফোরণে বিশেষ দক্ষতা ছিল তারা।
এদিকে, ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় মঙ্গলবার মাওবাদীরা তিন গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে। জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের ‘আত্মীয়’ সন্দেহে তাদের হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা সকলেই বিজাপুর জেলার পেদ্দাকোর্মা ও নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মাওবাদীরা তাদের গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, এনকাউন্টারের খবর এসেছে ছত্তিশগড় সীমানার সুকমা জেলাতেও। সেখানে গুলির লড়াইয়ে দুই মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার হয়েছে।