সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: গ্রামে মদ ও হাঁড়িয়া বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ। কেউ বিক্রি করলে তাকে ১০হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। মদ বিক্রি বন্ধ করতে গ্রামজুড়ে এরকম পোস্টার দিলেন মহিলারা। মানবাজার-২ ব্লকের ফুলবেড়িয়া গ্রামের নিমডিটোলায় ওই পোস্টার দিতেই মদ বিক্রি বন্ধ হয়েছে।
নিমডিটোলার বেশ কিছু মহিলা বহুদিন ধরে গ্রামে মদ বিক্রির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। একসময় এই গ্রামে অবাধে মদ বিক্রি হওয়ায় অনেক পুরুষ মদে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। রোজগারের টাকা মদ খেয়ে উড়িয়ে দেওয়া, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ির মহিলাদের উপর অত্যাচার, মারধরে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। মহিলারা প্রথমে গ্রামে মদ বিক্রির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলেও এই কারবার সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। লুকিয়ে মদ বিক্রি চলছিলই। একারণেই মহিলারা গ্রামে জরিমানার পোস্টার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো গ্রামের নানা জায়গায় পোস্টার দেওয়া হয়েছে। মোটা জরিমানার ভয়ে গ্রামে মদ বিক্রি বন্ধ হয়েছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা আরতি টুডু বলেন, গ্রামে পুরুষরা মদ খেয়ে বাড়িতে অশান্তি করে। গ্রামের মহিলা সমিতির তরফে অনেকবার প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি। সেজন্য বেশ কিছুদিন আগে জরিমানার পোস্টার দেওয়া হয়েছে। তাতে অবশেষে গ্রামে মদ বিক্রি বন্ধ করা গিয়েছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা সনকা সোরেন বলেন, ওই পোস্টারের পর থেকেই গ্রামে মাতালের উপদ্রব প্রায় নেই বললেই চলে। আগে গ্রামের লোকের পাশাপাশি বাইরে থেকেও অনেকে এসে মদ খেয়ে ঝামেলা করত। এর ফলে মহিলারা সমস্যায় পড়তেন। এখন জরিমানা ও নজরদারির মাধ্যমে মদ বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এর আগেও একবার গ্রামে মদ বিক্রি বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর নজরদারি ঢিলে হতেই ফের তা বিক্রি শুরু হয়ে যায়। তাই এবার পোস্টার দেওয়ার পাশাপাশি নজরদারিও চালানো হচ্ছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা বৈদ্যনাথ হেমব্রম বলেন, মদের কারণে বাড়িতে বাড়িতে অশান্তি বেড়ে গিয়েছিল। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছিল। এখন সেই সমস্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে। আশপাশের এলাকাতেও মদ বিক্রি বন্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানাচ্ছি। -নিজস্ব চিত্র