Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ কৃষ্ণনগরে মমতার সভা, জনসুনামির টার্গেট জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের

বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন।‌ সেই নির্বাচনের আগেই নদীয়ায় ঝটিকা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ ময়দানে জনসভা করবেন।

আজ কৃষ্ণনগরে মমতার সভা, জনসুনামির টার্গেট জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন।‌ সেই নির্বাচনের আগেই নদীয়ায় ঝটিকা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ ময়দানে জনসভা করবেন। এসআইআর আবহে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি নির্বাচনী লড়াইয়ে সংগঠনের উদ্দেশ্যেও নেত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। কারণ নদীয়া জেলার উত্তর ও দক্ষিণ ভাগে সংখ্যালঘু এবং মতুয়া ভোট ফ্যাক্টর। আর নির্বাচনের আগেই এসআইআর প্রক্রিয়া এই সম্প্রদায়ের ভোটবাক্সকে নানাভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে‌ মত রাজনৈতিক মহলের। তবে এই পরিস্থিতিতে নদীয়া জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর পদার্পণে উৎসাহিত ঘাসফুল শিবির। পাশাপাশি কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত সমস্ত বিধানসভা থেকে কর্মী সমর্থকদের আনিয়ে জনসভা সফল করতেও তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। লোক আনতে প্রতি বিধানসভা থেকেই কয়েকশো বাস তুলে নেওয়া হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের তরফে। 

Advertisement

রাজ্যের মন্ত্রী তথা কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠেই বিগত ১৫ বছরে মুখ্যমন্ত্রীর বহু জনসভা আমরা করেছি। কর্মী-সমর্থকদের আনানোর যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার থেকেও বেশি মানুষ আজকের সভায় আসবেন। মাঠ তো ভরবেই, মাঠের বাইরেও বহু মানুষ থাকবেন। নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর আগমন আমাদের কাছে বাড়তি পাওনা। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি তথা সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের জেলায় আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত আছি। প্রতি বিধানসভা থেকেই কর্মী সমর্থকরা আসবেন। কৃষ্ণনগরের এই জনসভা ঐতিহাসিক হতে চলেছে। 
বুধবার সকালের দিকে সভাস্থলে প্রশাসনের আধিকারিকরা বৈঠক করেন। মাঠ পরিদর্শন করেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার এবং ডিআইজি মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ ওয়াকার রাজা। এছাড়াও এদিন কৃষ্ণনগরের গাবতলার মাঠে হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টারের ট্রায়াল অবতরণ হয়। মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস নিজেও সভাস্থল পরিদর্শন  করেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা বারোটা নাগাদ কৃষ্ণনগরে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর রাজনৈতিক সভাস্থলের পাশেই গাবতলা ময়দানে প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে রাজ্যজুড়ে পথশ্রী-৪ প্রকল্পের মোট ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার কাজের সূচনা করবেন। যার মধ্যে নদীয়া জেলাতেই রয়েছে ৫০৯টি রাস্তা। এছাড়াও পুরসভাগুলিতেও পথশ্রীর রাস্তা রয়েছে‌। উদ্বোধনের পর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে রাজনৈতিক সভা করবেন তিনি। 
এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম পর্বের কাজ শেষ হয়েছে। এবার শুরু হবে শুনানি পর্ব। নদীয়া জেলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত উত্তরভাগে তৃণমূল শক্তিশালী। অন্যদিকে মতুয়া অধ্যুষিত দক্ষিণভাগে তৃণমূল বেশ কিছুটা পিছিয়ে। অথচ এসআইআরের প্রাথমিক পর্বে দেখা গিয়েছে, নদীয়া দক্ষিণেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং না হওয়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির তরফ থেকেও নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে সামাজিক বিভাজনের নীতিতে শান দেওয়া চলছে। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা নিয়ে রাজনৈতিক সভা হলেও এসআইআর আবহে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে সীমান্ত সংলগ্ন নদীয়া জেলার মানুষ। এছাড়াও সংখ্যালঘু মানুষদের উদ্দেশ্যেও মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা থাকে কি না, সেই নিয়েও জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নির্বাচনের মুখে জেলার নেতাদেরও ভোটের লড়াইয়ের ব্লু প্রিন্ট দিয়ে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে সীমান্ত ঘেঁষা এই জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর জনসভা রাজনৈতিকভাবেও অন্য মাত্রা পেয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ