Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা মাথায় নিয়েই বাংলার বাড়ির টাকা মমতার

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বহর ক্রমেই বাড়ছে বাংলায়। ইতিমধ্যে বকেয়া ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা চেয়ে বারবার দরবার করলেও, ‘বিরোধী’ বাংলাকে ‘ল্যাজে খেলাচ্ছে’ দিল্লি।

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা মাথায় নিয়েই বাংলার বাড়ির টাকা মমতার
  • ২১ মে, ২০২৫ ১০:০৫
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, ফুলবাড়ি: কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বহর ক্রমেই বাড়ছে বাংলায়। ইতিমধ্যে বকেয়া ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা চেয়ে বারবার দরবার করলেও, ‘বিরোধী’ বাংলাকে ‘ল্যাজে খেলাচ্ছে’ দিল্লি। উল্টে একের পর এক অজুহাত খাড়া করে বন্ধ করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় অনুদান। বিস্তর শর্ত চাপিয়ে, একের পর এক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েও ‘কুপোকাত’ করা যাচ্ছে না পূর্ব ভারতের এই রাজ্যকে। অনমনীয় মনোভাবে নিজস্ব রাজস্ব ভাণ্ডার থেকেই রাজ্যের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষার যাবতীয় প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঞ্চনার এই আবর্তেই ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের ১২ লক্ষ গ্রাহককে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া মঙ্গলবার থেকে শুরু করলেন তিনি। উত্তরবঙ্গ সফরপর্বে এদিন ফুলবাড়ি হেলিপ্যাড ময়দানে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে এর সূচনা হয়। আর্থিক সহায়তা প্রদানে উচ্ছ্বসিত মমতা ‘এক্স হ্যান্ডেলে’ নিজের উপলব্ধি ভাগ করে নিয়েছেন সবার সঙ্গে। লিখেছেন, ‘এটা অত্যন্ত গর্বের যে, রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজের টাকায় বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পে ১২ লক্ষ গরিব যোগ্য পরিবারকে দু’কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিচ্ছে। এ বাবদ প্রথম কিস্তির মোট ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা গত ডিসেম্বর মাসে দেওয়া হয়েছিল। আজ, দ্বিতীয় কিস্তির আরও ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া শুরু হল।’

Advertisement

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা আর আর্থিক বৈষম্য সত্ত্বেও যা কথা দিয়েছেন, তা পূরণে তিনি যে বদ্ধপরিকর, সে অঙ্গীকারও এদিন ফের করেছেন মমতা। বলেছেন, ‘অনেকে আগে আগে আসে, এত দেব, অত দেব বলে। ভোটের পর সব ভুলে যায়। কিন্তু আমরা যা বলি, তা করি। আমি যা কথা দিই, তা থেকে সরে আসি না। এটাই আমাদের ক্রেডিবিলিটি!’ এই পর্বেই এক্স হ্যান্ডেলে মমতার ঘোষণা—‘রাজ্যের আরও ১৬ লক্ষ যোগ্য গরিব পরিবারকেও আমরা বাড়ি করে দেব। তাঁরা তাঁদের প্রথম কিস্তির টাকা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এবং দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ২০২৬ সালের মে মাসে পেয়ে যাবেন। তাঁদেরও আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে রাখলাম।’ শুধু বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা নয়, চলতি রবি মরশুমে প্রকৃতি খামখেয়ালিপনায় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া আলুচাষিদের জন্যও ‘বাংলা শস্যবিমা’ বাবদ আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের এক লক্ষেরও বেশি আলুচাষির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি সাহায্য বাবদ ১৫৮ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার কাজও এদিন শুরু করেছেন মমতা। সামাজিক মাধ্যমের স্বঘোষিত ‘রাম-বাম’ বিপ্লবীরা ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করেছে, এবার বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। বিষয়টি মাথায় ছিল মমতার। স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন—‘আমরাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছি। তা সারা জীবন চলবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ