


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর নিয়ে আজ, মঙ্গলবার বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবেন বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষকে অভয়বাণী দেবেন তিনি। এসআইআরকে হাতিয়ার করে, নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি কোনও ধরনের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে আন্দোলন যে তীব্রতর হবে, সেই বার্তাও আজ দিয়ে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলন পৌঁছে যাবে দিল্লির দরবারেও।
আজ, মঙ্গলবার থেকে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই শুরু করবেন। তৃণমূল আগে থেকেই বলে আসছে, এসআইআরের পিছনে বিজেপির অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতে চায় তারা। এই আবহে আজ বিএলওরা যখন থেকে বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করবেন, তার কিছুক্ষণ পরেই পথে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সঙ্গে থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রেড রোডের বি আর আম্বেদকর মূর্তির সামনে থেকে দুপুর ২টো নাগাদ শুরু হবে তৃণমূলের মিছিল। ধর্মতলা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ হয়ে মিছিল শেষ হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত জোড়াসাঁকোতে। ৪ কিলোমিটার পথ হাঁটার পর জোড়াসাঁকোতে হবে ছোটো সভা। সেখানেই আগামীর লড়াইয়ের বার্তা দেবেন দলনেত্রী। তার ২৪ ঘণ্টা আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় গান পোস্ট করে তৃণমূল নেত্রী বাংলার মানুষের কাছে আবেদন রেখেছেন, জোট বাঁধুন, তৈরি হোন। এদিনের কর্মসূচিতে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিষেক।
এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে আত্মহত্যা, মৃত্যুর খবর আসছে। এই প্রেক্ষিতে মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আর কত যাবে মানবিক প্রাণ?’ আর অভিষেকের কথায়, ‘পাঁচ-ছ’জনের আত্মহত্যার খবর এসেছে। রক্তের দাগ লেগে আছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের হাতে। আমরা রাস্তায় নেমে লড়াই শুরু করতে চলেছি। আগামী দিনে আন্দোলন নিয়ে দিল্লি যাবে তৃণমূল।’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের বদলে ২০০৩ সালের ভোটারতালিকা ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই বিষয় উল্লেখ করে তৃণমূলের দাবি, এসআইআর নিয়ে খোদ কমিশন এখনও প্রস্তুত নয়।
এসআইআরে মানুষকে সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে রাজ্যজুড়ে ক্যাম্প করছে তৃণমূল। অভিষেক বলেছেন, ‘তৃণমূল থাকতে প্রকৃত কোনও ভোটারের নাম বাদ যাবে না। বিএলওরা কোনও অসুবিধায় পড়লে প্রশাসনকে জানাবেন। তাঁদের কোনও সহযোগিতা দরকার হলে তৃণমূল কর্মীরাও পাশে থাকবে।’ সেই সঙ্গে তৃণমূলের আবেদন, বিজেপির কথায় কেউ সিএএ ক্যাম্পে গিয়ে নাম লেখাবেন না। ওরা চেষ্টা করবে নাম বাদ দিয়ে দিতে।