Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর হয়রানি, মামলার হুমকি মমতার

হয়রানির নাম এসআইআর। একের পর এক মৃত্যুর কারণও। আতঙ্ক, কাজ কামাই করে শুনানিতে হাজিরা, তারপরও স্বস্তি নেই। নিশ্চয়তাও অধরা।

এসআইআর হয়রানি, মামলার হুমকি মমতার
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, গঙ্গাসাগর: হয়রানির নাম এসআইআর। একের পর এক মৃত্যুর কারণও। আতঙ্ক, কাজ কামাই করে শুনানিতে হাজিরা, তারপরও স্বস্তি নেই। নিশ্চয়তাও অধরা। কেন বাংলার এক কোটির উপর ভোটারকে এমন হেনস্তার মুখে পড়তে হবে? এই প্রশ্ন এখন আম জনতার মুখে। ক্ষোভও। আর সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণই সোমবার ঘটালেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, এই চূড়ান্ত হয়রানির বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে মামলা করবে রাজ্য সরকার। আর যদি প্রয়োজন হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই কোর্টরুমে দাঁড়াবেন রাজ্যবাসীর হয়ে। তুলে ধরবেন সাধারণ মানুষের হয়রানির কথা। 

Advertisement

গঙ্গাসাগর হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড সংলগ্ন কানায় কানায় ঠাসা সভাস্থল থেকে মমতার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দে এদিন ঝরে পড়েছে ক্ষোভ। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে দাঁড়িপাল্লার একদিকে রেখে লাগাতার আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপিকে রাজনৈতিক ফায়দা দিতেই এসআইআরের ছুতোয় লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন। মানুষের অধিকার ‘ভ্যানিশ’ হয়ে যাচ্ছে। তাঁর আক্রমণ, ‘মনে রাখবেন (বিজেপির নাম না নিয়ে) মানুষের অধিকার ভ্যানিশ হলে আপনারাও (রাজনৈতিকভাবে) ভ্যানিশ হয়ে যাবেন। আমরাও আইনের সাহায্য নিচ্ছি। এত মানুষের মৃত্যু! এতো মানুষের হয়রানি! আমরা আদালতে যাব। প্রয়োজনে আমি নিজেও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের হয়ে প্লিড করব।’
এখানেই শেষ নয়। বিজেপি-কমিশনের অশুভ আঁতাতের জেরেই বর্তমানের লিখিত বিজ্ঞপ্তির বদলে নির্বাচন কমিশন ‘হোয়াটসঅ্যাপ কালচার’ চালু করেছে বলে তাঁর অভিযোগ।
পশ্চিমবঙ্গে সভা করতে এসে ‘বাংলায় জঙ্গলরাজ চলছে’ বলে কটাক্ষ করে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন সেই কটাক্ষের পালটা মুখ্যমন্ত্রীর হুংকার, ‘এখানে জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। মনে রাখবেন বন্ধু, মানুষকে হয়রান করতে এলে সেই রয়্যাল বেঙ্গলের কামড় খাওয়া কিন্তু এড়ানো যাবে না।’ গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এদিন ‘দুর্যোধন–দুঃশাসনের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন বাংলার অগ্নিকন্যা। রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেছেন ‘অশান্তি পাকানোর ষড়যন্ত্রে’র বিষয়ে। তাঁর কথায়, ‘মনে রাখবেন, ওদের অচল করতে হবে। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না।’ পাশাপাশি, ভোটের দিন ‘বাংলার লক্ষ্মী’দের ঘরবন্দি করে রাখার যে নিদান বঙ্গ বিজেপি দিতে শুরু করেছে, তার বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন মমতা। সাফ বলেছেন, ‘এটা ক্রিমিনাল অফেন্স। আমি বলি, তুমি বাংলার লক্ষ্মীদের চেনো না। আঘাত করলে প্রত্যাঘাত হবে।’
এদিনের মঞ্চ থেকে ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে বঙ্গভাষীদের উপর অত্যাচার এবং বাংলার প্রতি বঞ্চনার বিরুদ্ধেও সরব হন মমতা। গঙ্গাসাগর মেলার জন্য বিশেষ অনুদান এবং জাতীয় মেলার স্বীকৃতি জন্য তিনি চিঠি লেখা সত্ত্বেও তা কেন্দ্র না মানায় তিনি এই বিষয়ে কেন্দ্রকে আর কিছু বলবেন না বলেও সাফ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ