Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মোদিকে ধিক্কার মমতার, ‘গণতন্ত্র ধ্বংস, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে বাংলা দখলের চেষ্টা লজ্জার’

‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারি হয়েছে রাজ্যে, অভিযোগ করেছিলেন আগেই। শুক্রবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন, ‘মুখে না বললেও, বিজেপির নির্দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশন অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে, তাতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

মোদিকে ধিক্কার মমতার, ‘গণতন্ত্র ধ্বংস, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে বাংলা দখলের চেষ্টা লজ্জার’
  • ২১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারি হয়েছে রাজ্যে, অভিযোগ করেছিলেন আগেই। শুক্রবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন, ‘মুখে না বললেও, বিজেপির নির্দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশন অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে, তাতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। অঘোষিত নয়, এটা ঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন!’ দৃশ্যত বিরক্ত মমতার কথায়, ‘গণতন্ত্র ধ্বংস করে, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে পদদলিত করে রাজ্য দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন মোদিজি। কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন করে নির্বাচন করতে হচ্ছে কেন? ধিক্কার জানাই! এটা লজ্জা, লজ্জা, লজ্জা!’ এদিন কালীঘাটের দপ্তরে বিধানসভা নির্বাচনে দলের ইস্তাহার প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বাংলায় নির্বাচন এলেই ‘মোদির গ্যারান্টি’ শুনতে অভ্যস্ত রাজ্যবাসী। সে গ্যারান্টি পূরণ হয়েছে কি না, হবে কি না, তা নিয়ে চর্চা চলছেই। তবে গ্যারান্টি নয়, ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’কে ইস্তাহারের মোড়কে পুরে এবার রাজ্যবাসীর কাছে উপস্থাপন করেছে তৃণমূল। মমতার কথায়, এটা আমার অঙ্গীকার, আমাদের অঙ্গীকার!

Advertisement

কেন ধিক্কার, কেন উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ? প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মমতা নিজেই। তাঁর কথায়, ‘যেদিন দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, সেদিন থেকেই চক্রান্ত শুরু। কিন্তু এবারের ষড়যন্ত্র আগের সবকিছু ছাপিয়ে গিয়েছে। ওরা (বিজেপি) যেনতেন রাজ্য দখল করে বাংলাটাকেই তুলে দিতে চায়।’ মমতার অভিযোগ, ‘উত্তরবঙ্গের কিছু অংশ বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্ত চলছে। এই ভোটের পরেই ডিলিমিটেশন হবে। তারপর এনআরসি এবং সবশেষে জনগণনায় নাম বাদ দেওয়া। এই সবের পিছনে রয়েছেন স্বৈরাচারী দুই ভাই মোদি-শাহ। গায়ের জোরে ভারতবর্ষ দখল করছে!’ 
ভোট ঘোষণা থেকে গত পাঁচদিনে রাজ্যের ৫০ জন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ ও প্রশাসনিক আমলাকে বদলি করা হয়েছে। কাউকে করা হয়েছে ‘নিষ্ক্রিয়’, আবার কাউকে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক করে ভিন রাজ্যে যেতে বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কমিশন কিছু কিছু বদলি করে, সেটাই দস্তুর। কিন্তু খাদ্য সরবরাহ, পূর্ত, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রধান সচিবদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নিয়ে চলে যাচ্ছে।’ কমিশনকে বিঁধে তৃণমূল সুপ্রিমোর তোপ—‘প্রশাসনের সবাইকে যদি নিয়ে চলে যায়, রাজ্যটা চলবে কীভাবে! কাজটা হবে কীভাবে!’
বিধানসভা ভিত্তিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে কমিশন। ভিন রাজ্য থেকে দলে দলে আধিকারিক নিয়ে আসা হচ্ছে। এই বিষয়টি উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘অন্য রাজ্যের আধিকারিকরা বাংলাকে চেনেন না। বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ভাষা, ভূগোল-ইতিহাস, উৎসব তাঁরা জানেন না। এসব দেখবে কে? কোনো বিপর্যয় হলে তার দায় কিন্তু বিজেপিকেই নিতে হবে।’ মমতার অভিযোগ, ‘বাংলার অস্মিতা, ইতিহাস, ভাষা, মেধা থাক... ওরা (বিজেপি) চায় না! বাংলাকে হিংসে করে! তাই টাকা, আর্মস, মাদক আর বহিরাগত গুন্ডা ঢুকিয়ে হাঙ্গামা পাকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।’ রাজ্যবাসীর প্রতি মমতার আহ্বান—‘বাংলার অস্তিত্ব ও সম্প্রীতি রক্ষার এই লড়াইয়ে আমাদের পাশে থাকুন, বিজেপিকে চরম শিক্ষা দিন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ