প্রীতেশ বসু, ঝাড়গ্রাম: বাংলা বললেই বাংলাদেশি—এই তকমা দিয়েই বিজেপিশাসিত রাজ্যে চলছে ‘বাঙালি খেদাও’! শুধু পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা বলে চিহ্নিত করে দেশান্তরেই আটকে নেই গেরুয়াবাহিনীর ছক। বাংলা ভাষার উপরও নেমে এসেছে আক্রমণ। আর এসবের পর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো এসে হাজির হয়েছে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)। আসল উদ্দেশ্য, বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো। তাই বুধবার প্রতিবাদে আবারও গর্জে উঠলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, বাংলার ভোট ময়দানে বারবার পরাজিত হয়ে এবার ভোটার ছাঁটাইয়ের খেলায় মেতেছে বিজেপি। এটা বকলমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি কার্যকর করার চেষ্টা। ভোটার ছাঁটাইয়ের এই খেলায় অমিত শাহের ক্রীতদাস এবং বিজেপির হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অমিত শাহ যেমন নাচাচ্ছে, তেমনই নাচছে। নাগরিকত্ব ইস্যুতে কমিশনকে আক্রমণ করেই ক্ষান্ত হননি মমতা। স্পষ্ট বলেছেন, ‘এরাজ্যে এনআরসি হবে না। কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে গেলে, আগে আমার দেহের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে।’ দলমতনির্বিশেষে সকলকে তাঁর অনুরোধ, নিজের ঠিকানা বেহাত হতে দেবেন না। প্রত্যেকে ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন।’
বাংলা ভাষার উপর হওয়া আক্রমণের প্রতিবাদে এদিন দুপুরে জঙ্গলমহলের মাটিতে আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, মানস ভুঁইয়া, ইন্দ্রনীল সেন, বিরবাহা হাঁসদার মতো রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা। বৃষ্টির মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা আন্দোলনের মিছিলে পা মেলান অসংখ্য মানুষ। নেত্রীর হাতে ছিল কখনও বিরসা মুন্ডা, রঘুনাথ মুর্মু, কখনও আবার রবি ঠাকুর বা স্বামী বিবেকানন্দের ছবি। মিছিল শেষের বক্তৃতায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তোলেন বাংলার অগ্নিকন্যা।
সম্প্রতি ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ উঠেছে বাংলার দুই জেলার দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্টেন্স অফিসারের বিরুদ্ধে। তাঁদের নামে সরাসরি এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিন বক্তৃতার শুরু থেকেই তা নিয়ে রাগে অগ্নিশর্মা ছিলেন মমতা। কোন আইনের বলে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে সেই প্রশ্নও তুলে তিনি বলেন, ‘আমার অফিসারদের সাসপেন্ড করতে বলা হয়েছে। বলে দিচ্ছে, এফআইআর করতে হবে। আমি বলে দিলাম, হবে না। আমি কাউকে অকারণে শাস্তি পেতে দেব না। অফিসারদের বলছি ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভালো করে কাজ করুন।’ এরপরেই দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তাঁর তোপ, অমিত শাহের অধীনে থাকা সমবায় মন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব এই জ্ঞানেশ কুমার। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারে বসে তিনি অমিত শাহের দালালি করছেন। ‘তাঁর প্রভু’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও জন্ম শংসাপত্র প্রকাশ্যে আনার চ্যালেঞ্জ জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলায় ‘এসআইআর’ আসন্ন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মানুষকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, ‘কারও নাম বাদ পড়লে রুখে দাঁড়ান। অসম থেকে বেআইনিভাবে কোচবিহারের মানুষকে নোটিস পাঠাচ্ছে। তাতে কেউ সাড়া দেবেন না। ওখানে গেলেই ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকিয়ে দেবে। আপনারা এর বিরুদ্ধে লড়াই করুন। আমরা আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করব।’ বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে মোদি-শাহের সরকারের অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিশ্বের দরবারে সোচ্চার হবেন বলেও চোখ রাঙিয়েছেন মমতা। আম জনতাকে তাঁর আহ্বান, বাংলা-বাঙালি ইস্যুতে প্রতিবাদে শামিল হতে মোবাইলের ‘জয় বাংলা’ রিংটোন এবং কলার টিউন ডাউনলোড করুন।