নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও আসানসোল: প্রাকৃতিক দুর্যোগে একদিকে যখন বিপর্যস্ত পাহাড়-ডুয়ার্স থেকে শুরু করে সিংহভাগ উত্তরবঙ্গ, ঠিক তখনই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) ‘সৌজন্যে’ দক্ষিণবঙ্গের নতুন নতুন এলাকা বানভাসি। গত বৃহস্পতিবার থেকে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে শুরু হয়েছে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়া। ৫৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছেড়ে সোমবারও তা অব্যাহত রেখেছিল মাইথন-পাঞ্চেত। তবে সন্ধ্যায় এই দুই জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ ১০ হাজার কিউসেক কমানো হয়েছে। অপরদিকে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে এদিন সকাল ৯টা থেকে জল ছাড়া হয়েছে ৬৮,৫০০ কিউসেক। এই পর্বে ফের ডিভিসি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বজায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘নিজেদের ও ঝাড়খণ্ডকে বাঁচাতে জল ছেড়ে দিচ্ছে ডিভিসি। ঝাড়খণ্ড নিরাপদে থাকুক, কিন্তু তারা নদীগুলি কেন পরিষ্কার করছে না! গত ২০ বছর ধরে বলে আসছি, মাইথন-পাঞ্চেত সহ গোটা ডিভিসি’র জলধারণ ক্ষমতা নেই। তাহলে এদের থাকার অর্থ কী! ড্রেজিংই হয় না। যদি জল ধরার ক্ষমতা বাড়ত, তাহলে এ পরিস্থিতি হতো না।’ ক্ষুব্ধ মমতার বক্তব্য, ‘মাইথন ও পাঞ্চেত জল ছাড়ার কারণে ঘাটাল ইতিমধ্যেই জলমগ্ন। ২০ বছর আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কেন্দ্র বাস্তবায়িত করেনি। আমরা নিজেরাই কাজ করছি। কিন্তু যতক্ষণ ডিভিসি এইভাবে জল ছাড়বে, নতুন সমাধান প্রয়োজন। সবাইকে সতর্ক করছি, ৭ ও ৮ অক্টোবর জোয়ার আসবে।’ এই আবর্তে আজ, মঙ্গলবার রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের নেতৃত্বে মাইথনে ডিভিসি দপ্তরের সামনে ধর্নায় বসবে তৃণমূল। মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার দুটি নিয়ন্ত্রিত হয় ডিভিসির মাইথন অফিস থেকে। এক্সিকিউটিভ পদমর্যাদার এক কেন্দ্রীয় আমলা তার নিয়ন্ত্রক। তাই ধর্নার জন্য মাইথনকেই বেছে নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।



