Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে রশিতে টান মমতার, খাঁটি তীর্থস্থান রূপে ধরা দিল পর্যটনক্ষেত্র দীঘা

৫৮ দিনের ব্যবধানে দীঘায় রচিত হল আরও এক ইতিহাস। গত ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের মুহূর্তে রচিত হয়েছিল এক ইতিহাস।

‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে রশিতে টান মমতার, খাঁটি তীর্থস্থান রূপে ধরা দিল পর্যটনক্ষেত্র দীঘা
  • ২৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, দীঘা: ৫৮ দিনের ব্যবধানে দীঘায় রচিত হল আরও এক ইতিহাস। গত ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের মুহূর্তে রচিত হয়েছিল এক ইতিহাস। শুক্রবার সেই মন্দিরে প্রথম রথযাত্রায় এরাজ্যের কোচবিহার থেকে নামখানা—রাজ্যের প্রতিটি কোণ থেকে লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটেছিল। ইসকনের বিদেশি ভক্তরাও খোল-করতালে রথযাত্রাকে অন্য মাত্রা দেন। বিদেশি খুদে ভক্তরা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নৃত্য পরিবেশন করে। সকালে থে঩কে হাজার হাজার ভক্ত লাইন দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। মাসির বাড়ি রওনা দেওয়ার আগে জগন্নাথদেবকে প্রণাম করেন তাঁরা। মন্দির থেকে বেরনোর সময়ে অনেকের কপালে ছিল তিলকের ফোঁটা। রথযাত্রার পুণ্যদিনে পর্যটনক্ষেত্র দীঘা খাঁটি তীর্থস্থান হিসেবে ধরা দিল।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাত তখন ১১টা। দীঘা স্টেশনে একটি পলিথিন পেতে শুয়ে ছিলেন নদীয়ার চাকদহ থানার নারায়ণপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব সুদর্শন দাস ও তাঁর স্ত্রী শ্যামলী দাস। বৈষ্ণব ভক্ত সুদর্শনবাবু দীঘার রথযাত্রায় শামিল হওয়ার জন্য আগেভাগে পৌঁছে গিয়েছেন। কিন্তু, হোটেলে থাকার পয়সা নেই। তাই স্টেশনেই বিছানা পেতেছেন। আলিপুরদুয়ারের চাপানি এলাকা থেকে সপরিবারে দীঘার রথযাত্রায় এসেছিলেন সুরেশ মোদক। ছেলে চয়ন পেশায় হাইস্কুল শিক্ষক। এনবিএসটিসির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দীঘার যোগাযোগ আরও সুদূঢ় হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আলিপুরদুয়ার থেকে দীঘায় পৌঁছে গিয়েছেন। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪পরগনা ছাড়াও কলকাতার নানাপ্রান্ত থেকে প্রচুর মানুষ দীঘার রথে অংশ নিয়েছিলেন।
এদিন সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে তোলা হয়। মন্দিরের মূল গেটের সামনে বলরাম, সুভদ্রা ও জগন্নাথদেবের পর পর তিনটি রথ রাখা হয়েছিল। রথে স্থাপনের পর পুজো ও আরতি চলতে থাকে। মাইকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ও ইন্দ্রনীল সেনের গাওয়া ‘জয় জগন্নাথ’ গান বাজছিল। মন্দির থেকে মাসির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দু’ধারে শুধু কালো মাথার ভিড়। বেলা ২টো নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী রথের সামনে পৌঁছন। তিনি আরতি করে এবং নারকেল ফাটিয়ে রথযাত্রার সূচনা করেন। সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের রাস্তা ঝাঁট দেওয়া হয়। বেলা আড়াইটেয় লক্ষ মানুষের ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে রথের রশিতে টান দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্য‌ অনেকে।
গোটা রাজ্যের নানা প্রান্তের মানুষের ভিড় এর আগে কখনও কোথাও হয়েছে কি না, অভিজ্ঞরাও মনে করতে পারছেন না। কিন্তু, দীঘার প্রথম জগন্নাথ মন্দিরের রথে সেই ঘটনাটাই ঘটল। ভক্তি, নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধার এক মেলবন্ধনে দীঘার প্রথম রথযাত্রা ঐতিহাসিক হয়ে রইল। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে হোটেলগুলি ছিল প্রায় হাউসফুল। স্বভাবতই চওড়া হাসি ছিল স্থানীয় হোটেল মালিকদের মুখে।

সম্পর্কিত সংবাদ