নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মমতা যেন কল্পতরু। মঙ্গলবার দুপুরে মেদিনীপুর কলেজ মাঠের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস দেখে পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষ এই কথাই বলাবলি করছেন। এদিন শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানুষের জন্য ২১২টি প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিপুল সংখ্যক প্রকল্প রূপায়ণে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এছাড়াও এদিন জেলায় ১০৯টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসব প্রকল্প রূপায়ণের জন্য প্রায় চারশো কোটি টাকা খরচ হবে। এইসব প্রকল্প থেকে উপকৃত হবেন জেলার কয়েক হাজার গ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষ। এদিন মুখ্যমন্ত্রী যখন একের পর এক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করছেন তখন মঞ্চে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, জেলার জনপ্রতিনিধি ও পুলিস-প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে একটি সোলার পাওয়ার প্রজেক্টের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। গোয়ালতোড়ে ৯৫০ একর জমির উপর এই প্রকল্প তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্প থেকে ১১২ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে আট লক্ষের বেশি মানুষকে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হল। আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন পাওয়ারের উৎপাদন ছিল মাত্র ২ হাজার মেগাওয়াট। আমরা তা বাড়িয়ে করেছি ১০ হাজার মেগা ওয়াট। আর কিছু দিন বাদেই সেটা ১৮ হাজার মেগা ওয়াট হয়ে যাবে। সমস্ত প্রকল্পের কাজ হয়ে গেলে বাংলাকে আগামী ১০০ বছরে আর লোডশেডিং ফেস করতে হবে না। তিনি আরও বলেন, মেদিনীপুরে বিপুল সংখ্যক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হল। এতে উপকৃত হবেন বহু মানুষ। সোমবার শালবনীতে একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট ও একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শিলান্যাস করেছি। সেখানে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া রাজ্যে শিল্পের উন্নতির জন্য ৬টি ইকনমিক করিডর হচ্ছে। তার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় হবে দু’টি। একটি ডানকুনি থেকে ঝাড়গ্রাম। আরেকটি খড়গপুর থেকে মোর গ্রাম। যারা বলে বেঙ্গল বিজনেস সামিটে কী হল। আমি তাঁদের এসে বলে যাচ্ছি, আমি ৭টি বিজনেস সামিট করেছিলাম। সেখান থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলাম প্রায় ১৯ লক্ষ কোটি টাকার। আমরা ১৩ লক্ষ কোটি টাকার কাজ ইতিমধ্যেই কমপ্লিট করে ফেলেছি। তাই দেখবেন রাস্তার দু’ ধারে ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হচ্ছে। বাদবাকিটা প্রসেসে আছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের অনুষ্ঠান থেকে গোয়ালতোড়ে ১৩২ কেভি সাব স্টেশনের কমিশনিং, চন্দ্রকোণা রোডের ১৩২ কেভি সাব স্টেশন থেকে গোয়ালতোড়ে ১৩২ কেভি সাব স্টেশন পর্যন্ত ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট লাইন স্থাপন, মেদিনীপুর পুর এলাকার মধ্যে জল শোধনাগার, পথশ্রী প্রকল্পে ২৬৪টি রাস্তা নির্মাণ সহ একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২৫টি দমকল ইঞ্জিনের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে এক হাজার ছোট ছোট শিল্প গড়ে উঠছে। বাংলা হচ্ছে নম্বর ওয়ান। স্কিল ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক এগিয়ে আমরা। পলিটেকনিক ও আইটিআই থেকে আমরা দশ লক্ষ ছেলেমেয়েকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এছাড়া ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে। মেদিনীপুরে বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখমন্ত্রী।-নিজস্ব চিত্র