Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আত্রেয়ী বাঁধের ক্ষতিতে ক্ষুব্ধ মমতা, ৬ জন ইঞ্জিনিয়ারকে বহিষ্কার সেচদপ্তরের

প্রথমে ৯ ফেব্রুয়ারি, তারপর ফের মঙ্গলবার ভোরে বড়সড় ক্ষতি ধরা পড়ল আত্রেয়ী বাঁধে।

আত্রেয়ী বাঁধের ক্ষতিতে ক্ষুব্ধ মমতা, ৬ জন ইঞ্জিনিয়ারকে বহিষ্কার সেচদপ্তরের
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বালুরঘাট: প্রথমে ৯ ফেব্রুয়ারি, তারপর ফের মঙ্গলবার ভোরে বড়সড় ক্ষতি ধরা পড়ল আত্রেয়ী বাঁধে। বুধবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক সভা থেকে এ নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। যাঁদের গাফিলতির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তাঁদের বিরুদ্ধে শস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। 

Advertisement

সময় নষ্ট না করে এদিনই অভিযুক্ত ছয় ইঞ্জিনিয়ারকে বহিষ্কার করে সেচদপ্তর। তাঁদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকেও তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়াও সেচদপ্তরের দক্ষিণ দিনাজপুর ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে এই কাজের দায়িত্বে থাকা সংস্থা ‘এমএসএ কনসট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেডে’র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতি সত্ত্বেও সদর অফিসে উপস্থিত না থাকায় শোকজ করা হয়েছে চিফ ইঞ্জিনিয়ার (নর্থ)-কে।
এদিন বৈঠক থেকে বাঁধ সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রের উদাসীনতা নিয়ে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দু’টি দেশের তৈরি বাঁধের জন্য আত্রেয়ী বাঁধের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যা নিয়ে একাধিকবার কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হয়। এই পরিস্থিতিতে আমাদের জল আটকে যাওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার কিছু করল না কেন?’
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট এবং কুমারগঞ্জ ব্লকের দু’হাজার হেক্টর জমিতে সেচের জল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আত্রেয়ী নদীতে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের স্বল্প উচ্চতার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এটি ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে নির্মিত। ফেব্রুয়ারি মাসে বাঁধে ক্ষতি ধরা পড়ে। মেরামতির জন্য রাজ্য ৮৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। সেই কাজ চলছিল। এরই মধ্যে নতুন করে বিপত্তি। মঙ্গলবার রাতে জলের স্রোতে নদী বরাবর বাঁধের কংক্রিটের মূল অংশ যায় ভেঙে। রীতিমতো আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। বুধবার সেচদপ্তরের সচিব সঞ্জয় কুণ্ডু ও কলকাতার ডিজাইন অফিসের ডিরেক্টর দীপঙ্কর রায়চৌধুরী সহ দপ্তরের মালদহ এবং দক্ষিণ দিনাজপুর ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়াররা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। 
মানস ভূঁইঞা সেচমন্ত্রী হওয়ার আগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানসবাবু। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প সাধারণ মানুষের করের টাকায় গড়ে উঠেছে। ফলে কেউ সেই টাকা নয়ছয় করতে চাইলে ব্যবস্থা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। সেই কারণেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না। তৎকালীন সময় এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, সকলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে বাঁধ সুরক্ষার বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর স্বস্তি পেয়েছেন নদীপারের বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই বাঁধ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সবরকমের ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ