Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

মহামতি

গীতাকার মহামতি ব্যাসদেব সরাসরি নিজে থেকে গীতার বাণীকে আমাদের কাছে তুলে ধরলেন না। একজন সূত্রধরের সাহায্য নিলেন। মহামতি সঞ্জয়। হস্তিনাপুর নরেশ মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রের অমাত্য সঞ্জয়।

মহামতি
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গীতাকার মহামতি ব্যাসদেব সরাসরি নিজে থেকে গীতার বাণীকে আমাদের কাছে তুলে ধরলেন না। একজন সূত্রধরের সাহায্য নিলেন। মহামতি সঞ্জয়। হস্তিনাপুর নরেশ মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রের অমাত্য সঞ্জয়। যুদ্ধের প্রাক্‌কালে অন্ধ নরপতি ধৃতরাষ্ট্র মহর্ষি ব্যাসদেবের কাছে প্রার্থনা করলেন—তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সরাসরি ঘটনাবলী দেখতে চান। জানতে চান। নিজের তপঃপ্রভাববলে মহর্ষি ব্যাসদেব মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রকে দিব্যচক্ষু দিতে চাইলেন। যার প্রভাবে ও মাধ্যমে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রও যুদ্ধের সরাসরি ঘটনাবলী দেখতে পাবেন স্বচক্ষে। ধৃতরাষ্ট্র যদিও নিজের পুত্রদের জয় চাচ্ছিলেন মনেপ্রাণে। অন্যায়, অন্যায্য জেনেও। কিন্তু তিনি মনে মনে ঘোরতরভাবে সন্দিহান ছিলেন কৌরবপক্ষের জয় সম্বন্ধে। কিছুটা ভয়, কিছুটা আত্মদ্বন্ধে ভুগে যা তিনি চিরদিনই ভোগ করে এসেছেন। তিনি পরে মত বদল করে বললেন—হে প্রভু, যদি তেমনটি সম্ভব হয় তবে অমাত্য সঞ্জয়কে সেই দিব্যদৃষ্টি দিন। সে সরাসরি দেখবে ও যুদ্ধের আনুপূর্বিক ঘটনাসমূহ আমাকে অবগত করাবে। সঞ্জয় রাজি হলেন কেন এই গুরুভার কাঁধে নিতে? রাজি হলেন মূলত দুটি কারণে। এক, রাজাদেশ, দুই, তাঁরও মনে মনে বাসনা শোনা নয় সরাসরি যুদ্ধ দেখবার। জয়-পরাজয়ের প্রত্যক্ষ দৃশ্য দেখবার। ভারতবিখ্যাত শূর-বীরদের সৈন্যচালনা-অস্ত্রচালনার উত্তেজক মুহূর্তের সাক্ষী থাকবার। বাইরে দেখালেন বটে তিনি রাজাদেশ শিরোধার্য করে রাজি হলেন। কিন্তু তাঁর ভিতরে প্রবল আগ্রহ। প্রাণে উত্তেজনার তুফান।

Advertisement

প্রথম অধ্যায়ের নাম ‘বিষাদযোগ’। অর্জুনের মানসিক অবসাদের কারণ—ক্রম, ফলশ্রুতি ও পরিণতি এই অধ্যায়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। সঙ্গে থাকছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সূচনার প্রেক্ষাপট, সৈন্য সমাবেশ ও পারস্পরিক ভৌগোলিক অবস্থান ও মনোজগতের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। অর্জুন-বিষাদযোগে মোট ছেচল্লিশটি শ্লোক। কেন করে এসেছিলেন যুদ্ধ জয় করবেন বলে। রাজ্য জয় করবেন বলে। ধৃতরাষ্ট্র পুত্রদের সহ সমস্ত কৌরব সেনাকে নিহত করবেন বলে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে এসে তাঁর মানসিক বৈকল্য। তিনি ভগ্নোদ্যম। হতাশ। তাঁর গায়ে অসহ্য দাহ। মুখ শুষ্ক। হাত হতে গাণ্ডীব খসে পড়ছে। হতাশায়। বিরুদ্ধ চিন্তায়। বিষাদে। সেখান থেকে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে সুপরামর্শ ও তীক্ষ্ণ যুক্তির জাল বিছিয়ে বিষাদমুক্ত করছেন। মানসিকভাবে সুস্থ করছেন। বিষাদের তমো থেকে উদ্ধার করছেন। যেহেতু প্রায় পুরো অধ্যায় জুড়ে অর্জুনের বিষাদের কারণ ও তার ইতিবৃত্ত বর্ণনা তাই এই অধ্যায় ‘অর্জুন-বিষাদযোগ’ নামে আখ্যাত। ধৃতরাষ্ট্রের জিজ্ঞাসা দিয়ে শুরু হচ্ছে ‘বিষাদযোগ’ ও সমগ্র গীতার ক্রমপর্যায়—
ধৃতরাষ্ট্রের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সঞ্জয় শুরু করছেন এবং প্রথম পর্ব সঞ্জয় শেষ করছেন অর্জুনের মানসিক অবস্থা বর্ণনার মাধ্যমে।
পার্থসারথি গায়েন-এর ‘শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতা ও দিব্যজীবন’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ