গীতাকার মহামতি ব্যাসদেব সরাসরি নিজে থেকে গীতার বাণীকে আমাদের কাছে তুলে ধরলেন না। একজন সূত্রধরের সাহায্য নিলেন। মহামতি সঞ্জয়। হস্তিনাপুর নরেশ মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রের অমাত্য সঞ্জয়। যুদ্ধের প্রাক্কালে অন্ধ নরপতি ধৃতরাষ্ট্র মহর্ষি ব্যাসদেবের কাছে প্রার্থনা করলেন—তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সরাসরি ঘটনাবলী দেখতে চান। জানতে চান। নিজের তপঃপ্রভাববলে মহর্ষি ব্যাসদেব মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রকে দিব্যচক্ষু দিতে চাইলেন। যার প্রভাবে ও মাধ্যমে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রও যুদ্ধের সরাসরি ঘটনাবলী দেখতে পাবেন স্বচক্ষে। ধৃতরাষ্ট্র যদিও নিজের পুত্রদের জয় চাচ্ছিলেন মনেপ্রাণে। অন্যায়, অন্যায্য জেনেও। কিন্তু তিনি মনে মনে ঘোরতরভাবে সন্দিহান ছিলেন কৌরবপক্ষের জয় সম্বন্ধে। কিছুটা ভয়, কিছুটা আত্মদ্বন্ধে ভুগে যা তিনি চিরদিনই ভোগ করে এসেছেন। তিনি পরে মত বদল করে বললেন—হে প্রভু, যদি তেমনটি সম্ভব হয় তবে অমাত্য সঞ্জয়কে সেই দিব্যদৃষ্টি দিন। সে সরাসরি দেখবে ও যুদ্ধের আনুপূর্বিক ঘটনাসমূহ আমাকে অবগত করাবে। সঞ্জয় রাজি হলেন কেন এই গুরুভার কাঁধে নিতে? রাজি হলেন মূলত দুটি কারণে। এক, রাজাদেশ, দুই, তাঁরও মনে মনে বাসনা শোনা নয় সরাসরি যুদ্ধ দেখবার। জয়-পরাজয়ের প্রত্যক্ষ দৃশ্য দেখবার। ভারতবিখ্যাত শূর-বীরদের সৈন্যচালনা-অস্ত্রচালনার উত্তেজক মুহূর্তের সাক্ষী থাকবার। বাইরে দেখালেন বটে তিনি রাজাদেশ শিরোধার্য করে রাজি হলেন। কিন্তু তাঁর ভিতরে প্রবল আগ্রহ। প্রাণে উত্তেজনার তুফান।


